
বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজ
বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের লড়াই, কোটি কোটি দর্শকের উন্মাদনা আর রঙিন উৎসব। কিন্তু ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জন্য আনন্দের উপলক্ষ এসেছে ভিন্ন এক কারণে। মাঠে বাংলাদেশের জাতীয় দল না থাকলেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরের মঞ্চে এবার জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া সংগীতশিল্পী ও ডিজে সঞ্জয় ।
বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জন্ম নেওয়া সঞ্জয় ছোটবেলায় পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানেই বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা এবং সংগীতজীবনের সূচনা। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইলেকট্রনিক মিউজিক প্রযোজক ও ডিজে হিসেবে কাজ করে আসলেও এবার তিনি পৌঁছে গেছেন এক নতুন উচ্চতায়।
বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবামে বাংলাদেশের প্রতিনিধি
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিসিয়াল অ্যালবামের শিল্পীদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন সঞ্জয়। তার গান ‘Siir Siir’-এ অংশ নিয়েছেন আন্তর্জাতিক তারকা নোরা ফাতেহি ও ভেজিড্রিম । গানটি বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবামের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
বিশ্বকাপের এই অ্যালবামে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণ রয়েছে। সেই তালিকায় একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পীর উপস্থিতি নিঃসন্দেহে দেশের জন্য গর্বের বিষয়।
শুধু অ্যালবামেই নয়, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও পারফর্ম করার সুযোগ পেয়েছেন সঞ্জয়। টরন্টোতে কানাডার উদ্বোধনী ম্যাচের আগে নোরা ফাতেহি ও ভেজিড্রিমের সঙ্গে মঞ্চে পরিবেশন করেন ‘Siir Siir’। বিশ্বকাপের কোটি দর্শকের সামনে এই পরিবেশনা বাংলাদেশি সংগীতপ্রেমীদের জন্য ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
বাংলাদেশ এখনো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তবে এবারের আসরে সঞ্জয়ের অংশগ্রহণ নতুন এক বার্তা দিয়েছে—বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য সব সময় ফুটবলার হওয়া জরুরি নয়। সংগীত, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার মাধ্যমেও একটি দেশকে তুলে ধরা যায়।
বাংলাদেশের লাখো ফুটবলপ্রেমীর কাছে তাই সঞ্জয় শুধুই একজন ডিজে নন; তিনি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের এক প্রতীকী প্রতিনিধি। তার সাফল্য প্রমাণ করে, মেধা ও পরিশ্রম থাকলে বাংলাদেশের তরুণরাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারেন।
নিজের এক বার্তায় সঞ্জয় বলেছেন, ছোটবেলায় তিনি স্বপ্ন দেখতেন একদিন তার সংগীত বিশ্বজুড়ে পৌঁছাবে। সেই স্বপ্নই আজ তাকে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিয়ে এসেছে। তার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্যও এক অনুপ্রেরণার গল্প।
বিশ্বকাপে হয়তো বাংলাদেশের পতাকা কোনো দলের জার্সিতে উড়ছে না, কিন্তু সংগীতের সুরে, আলোর ঝলকানিতে এবং কোটি দর্শকের সামনে বাংলাদেশের নাম উচ্চারিত হচ্ছে ডিজে সঞ্জয়ের হাত ধরে। আর সেটিই ২০২৬ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিগুলোর একটি।