
হক আমীন
এখন বর্ষা কাল। বর্ষা এলেই প্রকৃতির রঙ বদলে যায়। আকাশে মেঘের ভেলা, টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ, আর সবুজে ঢাকা চারপাশ- এই সময় যেন প্রকৃতি তার আপন সৌন্দর্য উজাড় করে দেয়। এই বর্ষার সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক হলো কদম ফুল। গোলাকার, নরম আর সুগন্ধি কদম ফুল যেন প্রকৃতির বুকে এক অপূর্ব অলঙ্কার।
বাঙলার মাটিতে কদম ফুল শুধু একটি ফুল নয়, এটি বর্ষার আগমনী বার্তা| আষাঢ়-শ্রাবণের ভেজা সকাল কিংবা সন্ধ্যায় কদম ফুলের সৌরভ বাতাসে ভেসে বেড়ায়। গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে হলুদ-সাদা রঙের এই গোল ফুলগুলো চোখে পড়ে সহজেই, মন ভরে যায় প্রশান্তিতে।
গ্রামবাংলার লোকসংস্কৃতিতে কদম ফুলের রয়েছে বিশেষ স্থান। তাইতো বাঙলার লোকগানে শোনা যায়" প্রান সখিরে ঐ শোন কদম তলে বংশী বাজায় কে।"
কদম গাছ শুধু সৌন্দর্য বাড়ায় না, এটি পরিবেশের জন্য ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ঘন পাতা ছায়া দেয়, পাখিদের আশ্রয়স্থল ˆতরি করে। গ্রামবাংলায় পথে প্রান্তরে কদম গাছ যেন প্রকৃতির এক নিবিড় বন্ধু।
বর্ষার দিনে কদম ফুল হাতে নিয়ে কেউ হয়তো ভালোবাসার মানুষকে মনে করে, কেউবা হারানো স্মৃতির মাঝে ডুবে যায়।কদম ফুল তাই শুধু প্রকৃতির নয়, মানুষের মন মানসিকতারও এক গভীর প্রতীক।
কদম ফুল বর্ষার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর সৌন্দর্য, সুগন্ধ আর সাংস্কৃতিক গুরুত্ব আমাদের জীবনে এনে দেয় এক অনন্য অনুভূতি। তাই বর্ষা এলে কদম ফুলের দিকে তাকিয়ে আমরা যেন আবারও নতুন করে প্রকৃতির প্রেমে পড়ে যাই।