
হক আমীন
ভোরের আলো ফুটতেই সাইকেলের ঘন্টা আর কন্ঠের ডাকে জেগে ওঠে পথঘাট। অতি পরিচিত ডাক - "ক্লিপ, দুল, খেলনা লাগবে? " নিয়ে রাস্তায় নামেন তুরাব আলী (৪১)। জীবিকার টানে, স্বপ্নের খোঁজে আর পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় তিনি প্রতিদিন ছুটে চলেন এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে।
তুরাব আলী পেশায় একজন ফেরিওয়ালা। তার সাইকেলটাই যেন একটি ছোট দোকান। তাতে ঝুলে থাকে রঙিন হেয়ার ক্লিপ, কানের দুল, শিশুদের খেলনা আর গৃহস্থালির ছোটখাটো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। কোমলমতি শিশুদের হাসি আর নারীদের প্রয়োজন মেটাতেই তার এই সংগ্রামমুখর পথচলা। সাইকেলের সামনে - পেছনে ঝোলানো পন্য যেন জীবনের রঙিন স্বপ্নগুলো - যেগুলো বিক্রি করে তিনি বাঁচিয়ে রাখেন নিজের পরিবারকে।
দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার ঝাউতলা গ্রামে তার বাড়ি। কিন্তু জীবিকার তাগিদে তাকে থাকতে হয় দূরে - ভৃরুঙগামারী উপজেলার সোনাহাট বাজারের এক কোনে। সেখানেই দিন শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে রাত যাপন করেন তিনি। নেই কোন স্থায়ী আশ্রয়, নেই আরামের বিছানা - জীবন থেমে থাকে না। তুরাব আলীর পরিবারে রয়েছে বিবি, দু ছেলে ও এক মেয়ে। তাদের ভবিষ্যত গড়ার স্বপ্নই তাকে টেনে আনে রাস্তায়। ১৪ বছর ধরে তিনি এই পেশায় নিয়োজিত।
প্রতিদিনের আয়ে চলে সংসার, চলে ছেলে মেয়েদের প্রয়োজন মেটানো। কখনো ভালো বিক্রি, কখনো মন্দ - তবুও হাল ছাড়েন না তিনি।
তার জীবন সংগ্রামের গল্পটি কেবল একজন ফেরিওয়ালার নয়, এটি হাজারো পরিশ্রমী মানুষের প্রতিচ্ছবি। যারা প্রতিকূলতার মাঝেও মাথা নত না করে এগিয়ে চলেন। তুরাব আলীর মতো মানুষদের ঘাম আর পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে সমাজের ভিত্তি।
চাকার ঘূর্ণনের সঙ্গে সঙ্গে তুরাব আলীর জীবনও ঘুরে চলে - কখনো কষ্টে; কখনো আশায়। কিন্তু থেমে থাকে না তিনি জানেন, এই পথেই লুকিয়ে আছে তার সন্তানদের ভবিষ্যত, তার জীবনের অর্থ।