
হক আমীন
বিশ্বকাপের পর্দা নেমেছে দু'দিন আগে, কিন্তু উত্তাপ এখনও থামেনি। ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনা, সমালোচনা আর তর্কে এখনও জমজমাট পুরো বিশ্ব। কোথায় ভুল হলো, কে সেরা খেলল, কোন দল কৌশলে এগিয়ে ছিল-এসব নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। চা স্টলে, অফিসে, সর্বত্র চলছে নানা কথা। তবে এই বিশ্লেষণের কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি দল-স্পেন।
স্পেনের এই দলটি আলাদা করে নজর কাড়ছে তাঁদের তারুণ্যের শক্তিতে। মাঠে যেন এক ঝাঁক উদ্যমী ক্ষুধার্ত ফুটবলারের দাপট। লামিন ইয়ামাল, নিকোলাস, পাউ কুবারসি, পেদরি, গাভী, ফারহান তোরেস- এই নামগুলো এখন ফুটবল বিশ্বে আলোকিত। বয়সে তরুণ হলেও খেলায় তাঁদের পরিপক্বতা বিস্ময় জাগিয়েছে।
স্পেনের পাসিং ফুটবল, বল দখলের আধিপত্য আর দ্রুত আক্রমণ-সবমিলিয়ে তাঁরা দেখিয়েছে আধুনিক ফুটবলের এক অনন্য রূপ। বিশ্লষকদের মতে "এটি নতুন টিকি-টাকা"- যেখানে পুরোনো স্টাইলের সাথে যুক্ত হয়েছে গতি, আগ্রাসন।
এই সাফল্যের পেছনের কারিগর কোচ লুয়িস দে লা ফুয়েনতো। তাঁর পরিকল্পনায় স্পেন দলটি পেয়েছে ভারসাম্য-অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মেলবন্ধন। ম্যাচভেদে কৌশল বদলানো, খেলোয়াড়দের সঠিক ব্যবহার- সবমিলিয়ে তিনি প্রমান করেছেন নিজেকে একজন দক্ষ কৌশলবিদ হিসেবে।
ফাইনালে আরজেনটিনার বিপক্ষে স্পেনের লড়াই ছিল শ্বাসরুদ্ধকর। কৌশল আর দক্ষতার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় পায় স্পেন। এই জয় শুধু একটি ট্রফি নয়, এটি একটি প্রজন্মের ঘোষণা "আমরাই আগামী দিনের ফুটবল। বিশ্বকাপ শেষ হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, টিভি, সংবাদপত্র-সব মাধ্যমে এখনও স্পেনের প্রশংসা চলছে। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস, নির্ভীক খেলা আর দলগত সমন্বয় সকলকে মুগ্ধ করেছে।
এই বিশ্বকাপ পরিস্কার করে দিয়েছে-ফুটবলের ভবিষ্যত তরুণদের হাতেই। স্পেন শুধু একটি শিরোপা জিতেনি, তাঁরা একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে। বিশ্বকাপ শেষ, কিন্তু গল্প শেষ নয়। স্পেনের এই তরুণ দল যে নতুন এক স্বপ্নের বীজ বপন করেছে-যা আগামী বছরগুলোতে ফুটবল দুনিয়াকে আরও সমৃদ্ধ করবে।