
হক আমীন
একসময় গ্রামবাংলার মাঠজুড়ে যে ফসলের উপস্থিতি ছিল নীরব অথচ দৃঢ়, তার নাম কাউন। ধান, তিল বা অন্য ফসলের পাশাপাশি অনায়াসে বেড়ে উঠত এই শস্য। প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা সহ্য করার ক্ষমতা, কম খরচে চাষ এবং পুষ্টিগুনে ভরপুর হওয়ায় কাউন ছিল কৃষকের এক বিশ্বস্ত সঙ্গী। অথচ সময়ের স্রোতে আজ সেই কাউন হারিয়ে যেতে বসেছে-মাঠে আর তেমন চোখে পড়ে না এই সোনালি ফসল।
কাউনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামবাংলার খাদ্যসংস্কৃতি। শীতের সকালে কাউনের পায়েস, উত্সবের পিঠা-এসব ছিল পরিবারের আনন্দঘন মুহূর্তের অংশ। পুষ্টিগুনে সমৃদ্ধ এই শস্যের রয়েছে প্রচুর আশ, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ প্রতিরোধে কাউনের গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিশ্বজুড়ে।
কাউনের চাষ কমে যাওয়ার পেছনে রয়েছে নানা কারন। কৃষকেরা এখন বেশী লাভজনক ফসলের দিকে ঝুঁকছেন, ধান, গম কিংবা সবজির তুলনায় কাউনের বাজারমূল্য কম হওয়ায় চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেক কৃষক।
এছাড়া বাজারে কাউনের চাহিদাও আগের মতো নেই। নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছেই এই শস্যের স্বাদ ও গুণাগুণ অজানা। ফলে উত্পাদন ও ভোগ দু ক্ষেত্রেই তৈরি হয়েছে এক ধরনের দূরত্ব।
প্রবীন কৃষক আমোদালির মতে, কাউন শুধু একটি ফসল নয়, এটি গ্রামবাংলার কৃষি ঐতিহ্যের অংশ। একে রক্ষা করা মানে আমাদের শিকড়কে রক্ষা করা। গবেষণা, কৃষক প্রণোদনা ও জনসচেতনতার মাধ্যমে কাউনের চাষ পুনরুজ্জীবিত করা এখন সময়ের দাবি।।
হয়তো আবার কোন এক সকালে গ্রামবাংলার উঠোনে ধোয়া ওঠা হাড়িতে ফুটবে কাউনের পায়েস-আর ফিরে আসবে হারিয়ে যাওয়া সেই সোনালি দিনের স্মৃতি।