
হক আমীন
অভাব অনটনের ঘরে জন্ম নেওয়া মিজানের স্বপ্নটা একটু অন্যরকম। যেখানে অনেকেই সীমাবদ্ধতার কাছে হার মেনে থেমে যায়, সেখানে মিজান থামতে শেখেনি। তার স্বপ্ন-একটি সরকারি চাকুরি। আর এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রতিদিনই লড়াই করে যাচ্ছে সে।
কুড়িগ্রাম জেলার ভৃরুঙগামারী উপজেলার চৌধুরিবাড়ি গ্রামের সাধারণ এক পরিবারে জন্ম মিজানের। সংসারে বাবা-মা, তিন বোন আর মিজান। কিন্তু নেই তেমন কোন জমিজমা কিংবা আর্থিক স্বচ্ছলতা। তবুও দরিদ্র তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বরং প্রতিটি প্রতিকূলতাই যেন তাকে আরও শক্ত করেছে।
বর্তমানে মিজান নাগেশ্বরী সরকারি কলেজে অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। পাশাপাশি একটি সরকারি অফিসে আউটসোর্সিংয়ের চাকুরি করছে। দিনের একাংশ কাটে অফিসে, আর বাকি সময়টা পড়ে থাকে বইয়ের পাতায়-সরকারি চাকুরির প্রস্তুতিতে। একের পর এক পরীক্ষা দিচ্ছে, চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নিরলসভাবে। তবে এখনো সেই কাঙ্খিত চাকুরির দেখা মেলেনি।
তবুও হাল ছাড়তে নারাজ মিজান। তার চোখেমুখে জলছে স্বপ্নের আলো। সে বিশ্বাস করে, একদিন তার এই প্রচেষ্টা সফল হবেই। নিজের জন্য নয়, পরিবারের জন্য কিছু করার তীব্র ইচ্ছা তাকে প্রতিদিন নতুন করে অনুপ্রাণিত করে।
মিজান বলে, "অভাব আছে অভাবের জায়গায়। আমি জানি, চেষ্টা করলে একদিন সফলতা আসবেই। " তার এই আত্মবিশ্বাস তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
গ্রামের অনেক তরুণের কাছে মিজান আজ অনুপ্রেরণার নাম। সীমিত সুযোগ সুবিধার মাঝেও কীভাবে নিজের লক্ষ্যকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যেতে হয়, তার বাস্তব উদাহরণ মিজান।
সমাজে এমন হাজারো মিজান আছে, যারা নীরবে লড়াই করে যাচ্ছে, নিজেদের স্বপ্নের জন্য। তাদের গল্পগুলো খুব কমই সামনে আসে। অথচ এই গল্পগুলোই আমাদের শেখায় অভাব নয়, ইচ্ছাশক্তিই মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি।
মিজানের মতো তরুণদের জন্য প্রয়োজন শুধু একটু সুযোগ, একটু সহায়তা। তাহলেই তারা বদলে দিতে পারে নিজের জীবন, এমনকি সমাজের চিত্রও। স্বপ্ন দেখার সাহস আর সেই স্বপ্ন পূরণের অদম্য প্রচেষ্টাই মিজানকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। হয়তো আজ নয়, কাল নয়, কিন্তু একদিন তার স্বপ্ন পূরণ হবেই। সেই দিনের অপেক্ষায় আছে মিজান, আর তার মতো হাজারো স্বপ্নবাজ তরুণ।