
হক আমীন:
দেশের মাছের জগতে ইলিশকে বলা হয় "মাছের রাজা।" স্বাদ ও পুষ্টিগুনে অনন্য এই মাছটি এখনও বাজারে পাওয়া যায়, যদিও দাম অনেকের নাগালের বাইরে।
কিন্তু একসময় গ্রামবাংলার নদী নালা, খাল, বিলে যে মাছটি সমানভাবে জনপ্রিয় ছিল-সেই "রানী মাছ" আজ উধাও হওয়ার পথে।
কয়েক দশক আগেও গ্রামাঞ্চলের জলাশয়গুলোতে প্রচুর পরিমাণে "রানী মাছ" পাওয়া যেত। ছোট আকৃতির এই মাছটি স্থানীয় মানুষের কাছে বউ মাছ হিসেবেও পরিচিত। এটি ছিল সহজলভ্য। এর স্বাদ অতুলনীয়, আর পুষ্টিগুনেও ছিল ভরপুর। ছোট-বড় সবাই এই মাছ খেতে পছন্দ করতেন।
কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই মাছটি এখন বিলুপ্তির পথে। জেলেদের জালে ধরা পরে না যেমন, বাজারেও তেমন চোখে পড়ে না, সুস্বাদু এই "রানী মাছ।" অনেক তরুণ প্রজন্মতো এই মাছের নামই জানে না। স্বাদ ভোগ তো দূরের কথা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিক্ষেত্রে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশকের ব্যবহারই এই মাছ বিলুপ্তির প্রধান কারন। এইসব রাসায়নিক পদার্থ বৃষ্টির পানি বা সেচের মাধ্যমে নদী, খাল, বিলের পানিতে মিশে যায়। ফলে পানির স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়, যা মাছের বংশ বৃদ্ধি ও টিকে থাকার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এছাড়া জলাশয় ভরাট, পানি দূষণও "রানী মাছ" হারিয়ে যাওয়ার আরেক কারন।
পরিবেশবিদদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শুধু "রানী মাছ" নয়, আরও অনেক দেশীয় মাছ হারিয়ে যাবে। ইতোমধ্যে তিতপুটি, চেলা, ঢেলা, ফলি, টাটকিনি, বড় চাঁদা মাছ দুর্লভ হয়ে গেছে।
গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও স্বাদের অংশ হিসেবে " রানী মাছকে" টিকিয়ে রাখা আমাদের দায়িত্ব। প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার মাধ্যমে আমরা যদি আবার সেই পুরোনো জলজ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারি, তবে হয়তো একদিন আবার খাল, বিলে দেখা যাবে জলজ প্রকৃতি থেকে উধাও হয়ে যাওয়া এই "রানী মাছ।" ফিরে আসবে মাছের "রাজা-রানীর" সুদিন।