
নাজমুল হক সিরাজগঞ্জ থেকে
সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার জগতলার গ্রামের তোতা মিয়া (৬৭)। গ্রামের আর দশজন খেটে খাওয়া মানুষের মতোই তাঁর জীবন। তবে একটি জায়গায় তিনি ব্যতিক্রম - তোতা মিয়া ভীষণ ক্রিড়া প্রেমিক।
১৯৮০ এর দশকে গ্রামে গ্রামে আন্ত:গ্রাম ফুটবল টুর্নামেন্ট ছিল বেশ জনপ্রিয়। খেলা হলেই দর্শক সারির সামনের দিকে দেখা যেত তোতা মিয়াকে। খেলোয়াড়দের উত্সাহ দিতে তাঁর কন্ঠে উঠত উচছাস। ফুটবল ছিল তাঁর আনন্দের অন্যতম উত্স।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপও দেখা তাঁর। তখন গ্রামবাংলায় বিশ্বকাপ নিয়ে এত মাতামাতি, উন্মাদনা, পতকা উড়ানো প্রতিযোগিতা ছিল না। সেই সময় তোতা মিয়ার মুখে অনেকে প্রথম শোনেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ডিয়াগো ম্যারাডোনার নাম। আজ ৬৭ বছর বয়সেও খেলাধুলার প্রতি তাঁর সেই ভালোবাসা অটুট।
সময়ের স্রোতে ৮০ দশক পেরিয়ে গেছে। বিশ্বকাপের বহু আসর এসেছে - গেছে। গতমাসেই শেষ হল ২০২৬ বিশ্বকাপের আসর। এই বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ দেখেছেন তোতা মিয়া রাত জেগে।
জীবনের বড় অংশ তাঁর কেটেছে পরিশ্রম করে। সংসার ও জীবিকার প্রয়োজনে ছুটতে হয়েছে প্রতিদিন। তারপরও সুযোগ পেলেই খেলাধুলার খবর নেওয়া, ফুটবল দেখা কিংবা খেলার আলোচনা করা তাঁর আনন্দের অংশ হয়ে থেকেছে।
তোতা মিয়ার গল্প শুধু একজন মানুষের গল্প নয়, এটি গ্রামবাংলার সেই হারিয়ে যেতে বসা ক্রীড়া সংস্কৃতিরও গল্প - যেখানে মাঠ ছিল আনন্দের কেনদ্র, ফুটবল ছিল গ্রামের মানুষের মিলনের উপলক্ষ। আর দর্শকরা ছিল খেলার একটি অংশ।
জগতলার এই সহজ সরল খেটে খাওয়া মানুষটি হয়তো কোনদিন ষ্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসেননি। কিন্তু গ্রামের ফুটবল মাঠের দর্শক সারিতে বসেই তিনি উপভোগ করেছেন তাঁর সময়ের সবচেয়ে বড় আনন্দ। তাঁর স্মৃতিতে আজও বেঁচে আছে ৮০ এর দশকের সেই মাঠ, সেই উচছাস আর ৮৬ বিশ্বকাপের ম্যারাডোনা।
তোতা মিয়া তাই শুধু একজন দর্শক নয়, তিনি গ্রামবাংলার ফুটবল প্রেমের এক জীবন্ত স্মৃতি।