
হক আমীনঃ
শিরোনাম দেখে মনে হতে পারে, তিনি কোন সিনেমার নায়ক । কিন্তু না। এই আলমগীরের হাতে নেই ক্যামেরার আলো, নেই রুপালি পর্দার সাজসজ্জা । জীবন সংগ্রামের কঠিন বাস্তবতায় তিনি একজন খেটে খাওয়া মানুষ । ভ্যান চালক। তবুও একটি মহত কাজ তাঁকে মানুষের চোখে সত্যিকার 'হিরো' করে তুলেছে ।
বাড়ি সুনামগঞ্জের তাহেরপুর উপজেলার বড়ছড়া গ্রামে। জীবিকার তাগিদে বাস করেন সিলেটের বিয়ানীবাজার । প্রতিদিনের মতোই জীবিকার তাগিদে ভ্যানের চাকা ঘুড়াতে ঘুড়াতে ছুটে যান এক জায়গা থেকে আরেক জায়গা। সাধারণ জীবন, সীমিত আয় - কিন্তু সততার জায়গায় কোন সীমাবদ্ধতা নেই।
সম্প্রতি শেওলা স্থল বন্দরে কর্মরত এক কর্মকর্তার মুঠোফোন হারানো যায় । গুরুত্বপূর্ণ ফোনটি হারানো যাওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। ফোনটি শেষ পর্যন্ত চলে যায় ভ্যান চালক আলমগীরের হাতে । তিনি ফোনটি রাস্তায় পড়ে পান ।
চাইলে তিনি ফোনটি নিজের কাছে রেখে দিতে পারতেন। কেউ হয়তো জানতোও না। কিন্তু আলমগীরের কাছে অন্যের সম্পদের নিজের করে নেওয়ার সুযোগ নেই। ফোনটির প্রকৃত মালিককে তিনি খুঁজে বের করেন। সম্মানের সঙ্গে তুলে দেন তাঁর হাতে ।
শুধু ফোন ফিরিয়ে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি তিনি। মালিককে চা- বিস্কুট দিয়ে আপ্যায়নও করেন। তাঁর এই আচরণ যেন বলে দেয়- মানবিকতা বড় কোন পদ-পদবী, অর্থবিত্তের বিষয় নয়, এটি মানুষের মনের পরিচয় ।
আমরা প্রায়ই সিনেমার পর্দার 'হিরো' দেখি। সাহসী চরিত্র আর অসাধারণ সংলাপে দর্শকদের মন জয় করেন। কিন্তু বাস্তব জীবনের 'হিরোরা' অনেক সময় থেকে যান চোখের আড়ালে । তাঁদের হাতে থাকে না কোন পুরস্কার, থাকে না প্রচারের আলো। থাকে শুধু বিবেক, সততা আর মানবিকতা ।
আলমগীরও তেমনি একজন মানুষ । তাঁর পরিচয় হয়তো বড় কোন পদে নয়, সম্পদেও নয়। তাঁর পরিচয়- তিনি একজন সত মানুষ । মহত মানুষ ।
শেওলা স্থল বন্দরের কর্মকর্তার হারানো মুঠোফোন বড় কোন খবর নয়। কিন্তু ছোট এই ঘটনা বড় একটি বার্তা দেয়-" এখনও সততা বেঁচে আছে, হারানো যায়নি মানবতা।"
তাই আলমগীর শুধু টিভি- সিনেমার অভিনয়ের 'হিরো' নন, মানুষের বিশ্বাস ও সম্মান অর্জন করে তিনি বাস্তব জীবনেরও একজন 'হিরো' আলমগীর ।