
বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে জিয়া পরিবারের জাতিসংঘ-সম্পর্কিত ইতিহাস। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেওয়ার মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে বিশ্ব সংস্থাটির মঞ্চে উঠতে যাচ্ছেন তিনি।
এর আগে তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। জাতিসংঘের সরকারি নথি অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের একাদশ বিশেষ অধিবেশনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে বক্তব্য দেন।
এর ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রথম ভাষণ দেন খালেদা জিয়া। পরবর্তী সময়েও তিনি বিভিন্ন সাধারণ পরিষদ ও বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য দেন। জাতিসংঘের নথিতে ১৯৯৫ ও ২০০৫ সালেও তার বক্তব্যের রেকর্ড রয়েছে।
এবার একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার প্রথম ভাষণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার, গণতান্ত্রিক রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, বৈশ্বিক শান্তি এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।
একই পরিবারের একাধিক প্রজন্মের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের জাতিসংঘের মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার উদাহরণ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বুশ পরিবারে জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও তার ছেলে জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রেসিডেন্ট হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দিয়েছেন।
দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলঙ্কার বন্দরনায়েকে পরিবার, পাকিস্তানের ভুট্টো পরিবার এবং ভারতের নেহরু-গান্ধী পরিবারেও একাধিক প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতার আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থিতির নজির রয়েছে। এসব পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও জিয়া পরিবারের পাশাপাশি শেখ পরিবারের সদস্যদের জাতিসংঘের মঞ্চে উপস্থিতির ইতিহাস রয়েছে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পরবর্তী সময়ে তার কন্যা শেখ হাসিনাও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একাধিকবার সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দিয়েছেন।
তবে জিয়া পরিবারের ক্ষেত্রে এবারের ঘটনা বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে বাবা, মা ও ছেলের তিন প্রজন্মের রাজনৈতিক উপস্থিতির কারণে। জিয়াউর রহমানের ১৯৮০ সালের ভাষণ থেকে শুরু করে খালেদা জিয়ার একাধিক অধিবেশনে অংশগ্রহণের পর এবার তারেক রহমান একই মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
ফলে চার দশকের বেশি সময় ধরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের যে রাজনৈতিক যোগাযোগ তৈরি হয়েছে, তারেক রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে সেই ধারায় যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন একটি অধ্যায়।