
হক আমীন
গ্রামবাংলার খাল- বিল, ডোবা, পুকুর কিংবা ধানক্ষেতের পানিতে এক পায়ে স্থির দাঁড়িয়ে থাকা 'বক' আমাদের অতি পরিচিত পাখি । তবে বকের নানা প্রজাতির মধ্যে কিছু বক রয়েছে, যাদের স্থানীয় নাম নিয়ে আছে ভিন্নতা । কোথাও তাকে বলা হয় "কানা বক", কোথাও আবার "কানী বক।" নামের ভিন্নতা থাকলেও জলাভূমির প্রকৃতিতে এ পাখির উপস্থিতি বেশ আকর্ষণীয়।
সাদাটে কিংবা মাটির সাথে মিশে থাকা রঙের এ পাখিটিকে অনেক সময় পানির ধারে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। দেখে মনে হয় যেন, সে একেবারে স্থির। কিন্তু সেই স্থিরতার আড়ালে চলে তার শিকারের অপেক্ষা। পানিতে সামান্য নড়াচড়া হলেই মুহূর্তের মধ্যে ঠোঁট বাড়িয়ে শিকার ধরে ফেলে।
আর তার প্রিয় শিকারের তালিকায় মাছের অবস্থান সবার উপরে। ছোট মাছ, জলজ পোকামাকড়সহ নানা জলজপ্রাণীও তার খাদ্য। তাই জলাশয়ের পাড়ে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে খাবারের সন্ধান করাই তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রার একটি অংশ।
কানা বকের সবচেয়ে বড় গুন হল তার ধৈর্য। মানুষ কিংবা অন্য প্রাণীর উপস্থিতি টের পেলেও অনেক সময় সে স্থির হয়ে থাকে। পানির রঙ, কচুরিপানা কিংবা ঘাসের আড়ালে নিজেকে এমনভাবে জড়িয়ে রাখে যে, দূর থেকে তাকে আলাদা করে চেনা খুব কঠিন। শিকারের উপযুক্ত মুহূর্ত এলেই দ্রুত আঘাত- এটাই তার কৌশল।
গ্রামবাংলার পুকুর, খাল বিল, জলাশয়ের পাশে বকের বিচরণ। ভোরের নরম আলো কিংবা বিকেলের শেষ রোদে পানির ধারে দাঁড়িয়ে থাকা বকের সারি বাঙলার চিরচেনা দৃশ্য, বাঙলার রূপ।
পাখিটি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় না, জলাভূমির খাদ্য শৃঙ্খলা ও পরিবেশ ভারসাম্য বজায় রাখে। প্রকৃতির এ নীরব শিকারির জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয়- পাখি, জলাশয় আর মানুষ, তিনটিই একই প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ । জলাশয় বাঁচলে, বাঁচবে মাছ, মাছ থাকলে ফিরবে বক, আর বক ফিরে এলে গ্রামবাংলার প্রকৃতিও যেন ফিরে পাবে তার একটুকরো সৌন্দর্য।