
হক আমীন:
রাজধানী ঢাকার ব্যস্ত অলিগলি। কোথাও যানবাহনের হর্ন, কোথাও মানুষের কোলাহল, আবার কোথাও জীবিকার তাগিদে ছুটে চলা মানুষের ঢল হাঁকডাক এই ব্যস্ত নগরীর পথে পথে দেখা মেলে এক পরিচিত দৃশ্যের। বিশেষ এক যন্ত্র কাঁধে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো একজন মানুষ। তাঁর পেশা দা, ছুরি ও অন্যান্য ধারালো গৃহস্থালি সরঞ্জাম 'শান' দেওয়া।
তিনি নবী হোসেন (৫০)। বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার নিভৃত এক গ্রামে। জীবিকার তাগিদে বসবাস করেন ঢাকায়। হাতে 'শান' দেওয়ার যন্ত্র, চোখে জীবিকার তাগিদ আর মনে পরিবারের কঠিন দায়িত্ব। ব্যস্ত রাজধানীর এক গলি থেকে আরেক গলিতে ঘুরে বেড়ান তিনি। কারও রান্নাঘরের দা, ভোঁতা ছুরি-এসব ধারালো করে দেওয়াই তাঁর কাজ। বিনিময়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে সংসার খরচের চাকা।
নবী হোসেনের পরিবারে পাঁচ সদস্য। তিন ছেলেসহ পরিবারের সংসার। তাদের সবার মুখে খাবার তুলে দেওয়া, দৈনন্দিন চাহিদা পুরন, ভবিষ্যত নিয়ে ভাবনা- সবকিছুর ভার বহন করতে হয় তাঁকে। তাই বয়সের ভার কিংবা কাজের ক্লান্তি উপেক্ষা করে, প্রতিদিন সকাল সকাল বেড়িয়ে পড়েন উপার্জনের আশায়।
নবী হোসেনের জীবনের গল্প মূলত সংগ্রাম, আর পরিশ্রমের। দুই যুগ ধরে তিনি এই পেশায় যুক্ত। সময় বদলেছে, রাজধানীর চেহারা বদলেছে, মানুষের জীবনযাত্রায় এসেছে নানা পরিবর্তন। কিন্তু জীবিকার প্রয়োজনে তাঁর হাতে ঘুরছে সেই 'শান' দেওয়া যন্ত্র। প্রতিদিন ঘূর্ণিপাকের পথচলাই তাঁর উপার্জনের অবলম্বন।
বেতার সাংবাদিক খন্দকার এরফান আলী বিপ্লব এ বিষয়ে বলেন, "ঢাকার বড় বড় অট্টালিকা, আর ব্যস্ত সড়কের আড়ালে নবী হোসেনের মতো অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ নীরবে লড়াই করে চলছেন। তাদের জীবন হয়তো বড় কোন শিরোনাম হয় না, কিন্তু তাদের ঘাম, শ্রম ও নিষ্ঠার মধ্যেই লুকিয়ে আছে নগর জীবনের এক কঠিন বাস্তবতা।" নবী হোসেন সেই বাস্তবতারই একজন প্রতিনিধি-যার জীবিকার চাকা ঘোরে 'শান' দেওয়ার যন্ত্রের ঘূর্ণিতে, আর যার স্বপ্ন আবর্তিত হয় পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর প্রত্যাশায়।