
নাজমুল হক (সিরাজগঞ্জ)
যমুনার বুকে সারি সারি বাঁশের ভুরো। নদীর তীরে স্তূপ করে রাখা বাঁশ। কোথাও চলছে বাঁশ সাজানোর কাজ, কোথাও আবার ক্রেতা- বিক্রেতার দরদাম। শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) উপজেলার জগতলার গুদরাঘাটের এ দৃশ্য যেন নদীকেন্দ্রিক গ্রামীন জীবিকার এক জীবন্ত ছবি।
সুদূর রংপুর, কুড়িগ্রাম থেকে বাঁশ কিনে ভুরো তৈরি করেন ব্যবসায়ীরা। এরপর নদীপথে ভাসিয়ে নিয়ে আসেন জগতলা গুদরাঘাটে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ঘাটে পৌঁছানোর পর শুরু হয় বেঁচা- বিক্রির পালা। লাভ- ক্ষতির হিসাব। বাঁশের এই ব্যবসাকে ঘিরেই জীবিকার স্বপ্ন বুনছেন শাহজাদপুর উপজেলার আড়রা গ্রামের আয়নাল বেপারী, হযরত আলী ও মুছা আলী।
তাদের কাছে বাঁশ কেবল একটি পন্য নয়, সংসার চালানোর অবলম্বন। বাঁশ কেনা, পরিবহণ ও বিক্রির প্রতিটি ধাপে- জড়িয়ে আছে তাদের শ্রম, সময় আর পুঁজি। "ব্যবসায় লাভ হলে মনে স্বস্তি আসে, লোকসান হলে বাড়ে দুশ্চিন্তা।" বলছিলেন আয়নাল বেপারী।
জগতলা গুদরাঘাটের পূর্ব পাড়েই যমুনা বিধৌত জেগে ওঠা চর। এসব চরে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট বসতি। সেখানে মানুষের ঘরবাড়ি, স্বপ্ন আর জীবনসংগ্রাম- সবকিছুর সঙ্গে নদীর রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। নদী যেমন চর সৃষ্টি করে, তেমনি ভাঙ্গনের মাধ্যমে কেড়ে নেয় মানুষের বসতভিটা। আবার সেই নদীপথই অনেকের জীবিকার দুয়ার খুলে দেয়। তাদেরই একজন বাহাদুর আলী। একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা নিয়ে জীবিকার লড়াই করছেন তিনি প্রতিদিন। সহজ-সরল এই মানুষটির চেহারা বলে দেয় জীবনসংগ্রাম কতটা কঠিন।
জগতলা গুদরাঘাটে বাঁশের ভুরোগুলো তাই শুধু পন্য পরিবহনের বাহন নয়, এগুলো নদী তীরবর্তী মানুষের শ্রম, সাহস ও বেঁচে থাকার প্রতীক।
যমুনার ঢেউয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলে আয়নাল বেপারী, হযরত আলী ও মুছা আলীদের জীবন-জীবিকার চাকা। নদীর বুকে তাদের এই পথচলা যেন বলে যায়- জীবনসংগ্রাম থেমে থাকে না, জীবিকার তাগিদে মানুষ খুঁজে নেয় নতুন পথ।