
নারীদের সম্মান যারা করে না, তাদের হাতে দেশ কখনোই নিরাপদ হতে পারে না—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনায় বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, সুযোগ পেলে তারা নারীদের কীভাবে অপমান করে, তা একাত্তর সালেই দেশবাসী দেখেছে। যাদের কাছে নারীদের সম্মান নেই, তাদের কাছে দেশ নিরাপদ হতে পারে না।
জামায়াতের দলে নারী সদস্য থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, তাদের নারীরাও তো ঘর থেকে বের হচ্ছেন। তাহলে তাদের পরিচয় কী? এখন নারীদেরই চিন্তা করতে হবে—তারা কীভাবে এর জবাব দেবে।
সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, একটি মহল বলার চেষ্টা করছে ভোট গণনায় সময় লাগবে। আবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। যারা নারীদের হেয় করছে, মিথ্যা বলছে, তারাই এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ছলচাতুরীর চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছিলেন। একইভাবে চব্বিশ সালে ছাত্র-জনতা দেশ রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে।
বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলনের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছরে বিএনপি বহু আন্দোলন করেছে। গুম-খুনের শিকার হয়েছে দলের নেতাকর্মীরা। মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় নির্বাচনেও একই অবস্থা ছিল। এখন সময় এসেছে—১২ তারিখে মানুষ তার অধিকার প্রয়োগ করবে।
তিনি বলেন, বিএনপি কথার ফুলঝুরি নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চায়। সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চায় দলটি, যেখানে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মানুষ মূল্যায়িত হবে।
তারেক রহমান আরও বলেন, অতীতে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে। আগামী দিনে সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন। শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে হবে।
বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার গঠন করলে গৃহিণীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা কারও মুখাপেক্ষী না হন। বিএনপি খুলনাকে মৃত শিল্পনগরী থেকে জীবন্ত শিল্পনগরীতে রূপান্তর করবে, যেখানে নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তরুণদের জন্য আইটি পার্ক এবং কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ধানের শীষকে দেশ পুনর্গঠনের প্রতীক উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও দুর্নীতি মোকাবিলায় বিএনপির অভিজ্ঞতা রয়েছে।
বিএনপির ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন ও বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন। খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এসবই প্রমাণ করে, বিএনপি জনগণের জন্য কাজ করে।
শেষে তিনি বলেন, ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সবাইকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। একমাত্র বিএনপিরই রয়েছে দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা এবং সঠিক পথে দেশ পরিচালনার সক্ষমতা।