
দীর্ঘ ১৫ বছর পর নওগাঁ জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন হতে যাচ্ছে। আগামীকাল সোমবার ওই সম্মেলন করবে দলটি। ১১ উপজেলা ও তিনটি পৌর কমিটির ১ হাজার ৪১৪ জন কাউন্সিলরের ভোটে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে নির্বাচিত হবে নতুন নেতৃত্ব। সম্মেলন ঘিরে কাউন্সিলর ও দলীয় নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন।
সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদ কারা পাচ্ছেন, তা নিয়ে চলছে গুঞ্জন। শহরের বালুডাঙ্গা এলাকায় নওগাঁ কনভেনশন হল সেন্টারে এই সম্মেলন ঘিরে শহরের বালুডাঙ্গা এলাকায় প্রার্থীদের ছবিসংবলিত ব্যানার, প্লাকার্ড ও ফেস্টুনে ভরে গেছে। সম্মেলনের সমাবেশস্থল ও ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতি একেবারে শেষ পর্যায়ে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধান অতিথি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল মাহমুদ টুকুকে প্রধান অতিথি করা হয়েছে। সম্মেলন উদ্বোধন করেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম।


নওগাঁ জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাকে। নওগাঁ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও সম্মেলন পরিচালনা কমিটির সদস্য শেখ রেজাউল ইসলাম বলেন, সভাপতি পদে আটজন, সাধারণ সম্পাদক পদে চারজন এবং সাংগঠনিক সম্পাদকের দুটি পদের জন্য আটজন মনোনয়নপত্র তুলেছেন। সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে এই তিনটি পদে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। নওগাঁ কনভেশন সেন্টারে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবেন। সম্মেলন সফল করার জন্য ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
নতুন কমিটতে সভাপতি পদপ্রত্যাশীরা হলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজমুল হক (সনি), জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম (ধলু), জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক (নান্নু), জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাছান তুহিন, নওগাঁ পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুস শুকুর, জেলা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ এসএম মামুনুর রহমান ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য এ বি এম আমিনুর রহমান।
সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়ার জন্য লড়ছেন চারজন। তাঁরা হলেন, জেলা বিএনপির বর্তমান সদস্য সচিব বায়েজিদ হোসেন (পলাশ), জেলা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রহমান (রিপন), জেলা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম (টুকু) ও আমিনুল ইসলাম (বেলাল)। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদকের দুটি পদের জন্য আটজন মনোনয়ন তুলেছেন। তাঁরা হলেন, শফিউল আজম রানা, নূর-ই আলম মিঠু, ফরিদুজ্জামান, খায়রুল আলম, শবনম মোস্তারী কলি, সুলতান মামুনুর রশিদ, কামরুজ্জামান কামাল ও জহুরুল হক।
সর্বশেষ ২০১০ সালে নওগাঁ জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হন সামসুজ্জোহা খান, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন মামুনুর রহমান রিপন। ২০১৫ সালে ওই কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর সম্মেলনের মাধ্যমে আর কোনো কমিটি গঠন হয়নি। সর্বশেষ ২০২২ সালে গঠিত আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে।
নওগাঁ পৌর বিএনপির সভাপতি শেখ মিজানুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করায় নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন। তাঁদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দলীয় কার্যালয় ও মোড়ে মোড়ে এসব নিয়েই আলোচনা চলছে। সমঝোতা করে কমিটি করতে পারলে ভালো হতো। তবে যেহেতু সমঝোতা করা যায়নি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হচ্ছে। এ ধরণের গণতান্ত্রিক চর্চা থাকা ভালো সবচেয়ে বড় কথা সম্মেলন হচ্ছে এতেই আমরা খুশি।
সভাপতি প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা যাচ্ছে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সকল আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। সর্বশেষ দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে আমি ভোটের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলাম। এবারও আমি আশাবাদী, কাউন্সিলররা ভোটের মাধ্যমে আমাকে বিজয়ী করবেন।
আরেক সভাপতি প্রার্থী নজমুল হক বলেন, ‘বিএনপি যে একটি গণতান্ত্রিক দল, এই নির্বাচনই তার প্রমাণ। নেতা-কর্মীরা প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে তাঁদে নেতা নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ শাসনামলে প্রতিকূল পরিবেশেও আমি তিন তিনবার নওগাঁ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। সব সময় দলের নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সভাপতি প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে কাউন্সিল ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনে হারজিত মেনেই আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। আশা করি, জয়ী পরাজিত সবাইকে নিয়েই চলতে হবে।
সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মামুনুর রহমান বলেন, নওগাঁ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা চান নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হোক। সেই জায়গা থেকে তিনি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়েছেন। নওগাঁর বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জানে ফ্যাসিস্ট শাসনামলে আমি কতবার জেল খেটেছি, কত জুলুম সহ্য করেছি। আমি আশা করি, সম্মানিত কাউন্সিলররা দলের প্রতি প্রার্থীদের ত্যাগ-তীতিক্ষা বিবেচনা করে তাঁদের নেতা নির্বাচিত করবেন। সেই জায়গা থেকে আমি আশা করি, সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হব।
আরেক সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী বায়েজিদ হোসেন বলেন, আমি একেবারে তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব। ছাত্রদল ও যুবদলে নেতৃত্ব দিয়ে পরীক্ষায় পাশ করার পর দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আমাকে জেলা বিএনপির সদস্য সচিবের দায়িত্ব দিয়েছেন। সদস্য সচিবের দায়িত্ব পাওয়ার পর নওগাঁ জেলা বিএনপিকে একটি শাক্তিশালী ইউনিটে পরিণত করেছি। ইউনিয়ন থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সকল কমিটি গণতান্ত্রিক উপায়ে গঠন করা হয়েছে। অধিকাংশ কমিটিই ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে। আমার সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং বিগত হাসিনা শাসনামলে জেলজুলুমের ইতিহাস বিবেচনা করে আশা করি সম্মানিত কাউন্সিলরা আমাকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচন করবেন।