
স্পোর্টস ডেস্কঃ
একসময় যার পায়ের জাদুতে মুগ্ধ হয়েছে পুরো ফুটবল বিশ্ব, সেই রোনালদিনহো আবারও ফিরছেন পেশাদার ফুটবলে। ৪৬ বছর বয়সে ইতালির তৃতীয় বিভাগের ক্লাব রাভেন্নায় যোগ দিয়ে অবসর ভেঙেছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি এই তারকা। শেষবার পেশাদার ম্যাচ খেলার ১১ বছর পর তার এই প্রত্যাবর্তন ফুটবল দুনিয়ায় তৈরি করেছে ব্যাপক আলোড়ন।
বৃহস্পতিবার রাভেন্নার মারিনা এলাকায় আয়োজিত ক্লাবের পরিচিতি অনুষ্ঠানে রোনালদিনহোকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান হাজারো সমর্থক। হাতে ছিল ক্লাবের ১০ নম্বর জার্সি। বৃষ্টিভেজা আবহাওয়াতেও বিপুলসংখ্যক সমর্থকের উপস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, ব্রাজিলিয়ান তারকার জনপ্রিয়তা এখনো কতটা অটুট।
তবে কবে মাঠে নামবেন রোনালদিনহো, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। নিজেও বিষয়টি কোচ ও ক্লাব কর্তৃপক্ষের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, দলের সঙ্গে থাকতে এবং সতীর্থদের উৎসাহিত করতে চান। পাশাপাশি নিজের ৩০০তম ক্যারিয়ার গোলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।
রোনালদিনহোর সর্বশেষ পেশাদার ম্যাচ ছিল ২০১৫ সালে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্লুমিনেন্সের হয়ে। ২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। এরপর প্রদর্শনী ম্যাচসহ বিভিন্ন ফুটবল আয়োজনে দেখা গেলেও এবারই প্রথম প্রতিযোগিতামূলক পেশাদার ফুটবলে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রাভেন্নার মালিক ও সভাপতি ইগনাসিও সিপ্রিয়ানি গত জুনে রোনালদিনহোর সঙ্গে চুক্তির ঘোষণা দেন। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলোয়াড় হিসেবে নিবন্ধন করা হবে। একই সঙ্গে রোনালদিনহো ক্লাবটির মালিকানারও অংশীদার হচ্ছেন।
সিপ্রিয়ানির স্বপ্ন আরও বড়—রাভেন্নার জার্সিতে রোনালদিনহোকে দিয়ে ক্যারিয়ারের শেষ গোলটি করানো। তার দাবি, এই উদ্যোগ কেবল প্রচারণার জন্য নয়; বরং রাভেন্নাকে ঘিরে সমর্থকদের নতুন করে উজ্জীবিত করার একটি প্রকল্প।
রাভেন্নার হয়ে রোনালদিনহোর প্রথম ম্যাচ অবশ্য সোমবার রেজিয়ানার বিপক্ষে হবে না। ফলে তার বহুল প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তনের জন্য সমর্থকদের আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে।
ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী এবং ২০০৫ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী রোনালদিনহো ক্লাব ক্যারিয়ারে বার্সেলোনা, এসি মিলান, পিএসজি, গ্রেমিও ও আতলেতিকো মিনেইরোর মতো ক্লাবে খেলেছেন। এবার ক্যারিয়ারের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে রাভেন্নাকে ঘিরে তার নতুন অধ্যায়—আর সেই অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হয়ে উঠেছে একটি গোল। সেটি হলে ৩০০ গোলের মাইলফলক ছুঁয়ে আরও স্মরণীয় হয়ে থাকবে তার প্রত্যাবর্তন।