
স্পোর্টস ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়া সফরে ব্যাট হাতে দুঃসময় যেন কাটছেই না লিটন দাসের। ম্যাকাই টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসেও শূন্য রানে আউট হয়ে টানা তিন ইনিংসে ‘ডাক’ মারলেন বাংলাদেশি এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। আরও হতাশার বিষয়, তিন ইনিংসেই তার উইকেট গেছে মিচেল স্টার্কের শিকার হয়ে।
ম্যাকাই টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের সামনে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারে সাদমান ইসলামকে পয়েন্টে ক্যাচ বানানোর পর পরের বলেই মুমিনুল হকের অফস্টাম্প উড়িয়ে দেন স্টার্ক। মাত্র পাঁচ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা।
এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। স্টার্ককে টানা দুটি চারও হাঁকান তিনি। তবে ৪৬ বলে ৩১ রান করে শেষ পর্যন্ত স্টার্কের বলেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শান্ত।
শান্তর বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন লিটন। মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে জুটি গড়ার সুযোগ থাকলেও সেটি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। স্টার্কের প্রথম নয় বল কোনোভাবে সামলে নিলেও দশম বলে তৃতীয় স্লিপে বেউ ওয়েবস্টারের হাতে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানেই ফিরতে হয় তাকে।
এর ফলে ডারউইন টেস্টের এক ইনিংস এবং ম্যাকাই টেস্টের দুই ইনিংস মিলিয়ে টানা তিন ইনিংসে রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরলেন লিটন।
শুধু লিটন নন, ম্যাকাই টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের আরও কয়েকজন ব্যাটার ব্যর্থ হয়েছেন। তানজিদ হাসান তামিম ৩৪ বলে ৯ রান করে প্যাট কামিন্সের বলে স্টার্কের হাতে ক্যাচ দেন। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা তানজিদের পরের দুই ইনিংসেও ব্যাট হাসেনি।
এর আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস ২১০ রানে গুটিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বাংলাদেশের পেসার শরিফুল ইসলাম। ৪৮ রানে সাত উইকেট নিয়ে তিনি গড়েন দুর্দান্ত এক বোলিং স্পেল। ক্যামেরন গ্রিনকে ৬৭ রানে ফেরান শরিফুল।
অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছিল মাত্র ৬৪ রানে। ফলে অস্ট্রেলিয়া ১৪৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায়। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিং বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারেনি সফরকারীরা।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ সাত উইকেটে ৭৩ রান। ক্রিজে ছিলেন মুশফিকুর রহিম ও তাইজুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট বাঁচাতে এখন শেষ উইকেটজুটিগুলোর দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ।