
স্পোর্টস ডেস্ক
লিঙ্গান্তর প্রক্রিয়ার কারণে কয়েক বছর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের বাইরে থাকার পর আবারও মাঠে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার সঞ্জয় বাঙ্গারের সন্তান অনয়া বাঙ্গার। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপাতত দেশটির কমিউনিটি ক্রিকেটে খেলতে পারবেন ২৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
অস্ট্রেলিয়ার কমিউনিটি ক্রিকেটে খেলার পাশাপাশি নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারলে ২০২৭ সালের মার্চ থেকে এলিট পর্যায়ের নারী ক্রিকেটেও খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন অনয়া। সে ক্ষেত্রে মেয়েদের বিগ ব্যাশ লিগেও খেলার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনয়ার আবেদনের বিষয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া সরাসরি সিদ্ধান্ত নেয়নি। চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য, অস্ত্রোপচারের নথি, হরমোন ও টেস্টোস্টেরনের মাত্রা, ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা এবং খেলার ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্য বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল পর্যালোচনা করেছে।
অনয়ার আগের নাম ছিল আরিয়ান বাঙ্গার। ২০২২ সালে তিনি লিঙ্গান্তর প্রক্রিয়া শুরু করেন। চলতি বছরের মার্চে জেন্ডার-অ্যাফার্মিং সার্জারির পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার বিষয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নীতিমালা অনুযায়ী, নারী বিভাগের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে অংশ নিতে হলে একজন খেলোয়াড়ের রক্তে সিরাম টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ১২ মাস প্রতি লিটারে ১০ ন্যানোমোলের নিচে থাকতে হয়। অনয়ার ক্ষেত্রে এই সময়সীমা পূর্ণ হবে ২০২৭ সালের মার্চে।
এরপর অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তাকে পুনরায় রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে। পরীক্ষায় নির্ধারিত মাত্রা বজায় থাকলে এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে পারলে এলিট নারী ক্রিকেটে খেলার অনুমতি পাবেন তিনি।
তবে তার আগেই অস্ট্রেলিয়ার যেকোনো রাজ্য বা অঞ্চলের প্রিমিয়ার লিগে খেলার সুযোগ রয়েছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নীতিমালায় প্রিমিয়ার ক্রিকেটকে কমিউনিটি ক্রিকেটের আওতায় রাখা হয়েছে।
অনয়ার সর্বশেষ রক্ত পরীক্ষায় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা প্রতি লিটারে ০.৬ ন্যানোমোল পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্রিকেটে ফেরার সুযোগকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন অনয়া। কয়েক বছর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের বাইরে থাকার পর আবার প্রিয় খেলায় ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় উচ্ছ্বসিত তিনি।
অনয়া মনে করেন, ক্রিকেট তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। লিঙ্গান্তর প্রক্রিয়া শুরু করার সময় ক্রিকেটে আর ফিরতে পারবেন কি না, সেটিই ছিল তার অন্যতম বড় উদ্বেগ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবার মাঠে ফেরার একটি সুযোগ তৈরি হওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট।
২০২৭ সালের মার্চে নির্ধারিত সময়সীমা পূরণ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার ওপর নির্ভর করছে এলিট নারী ক্রিকেটে অনয়া বাঙ্গারের প্রত্যাবর্তন।