শেরপুর উপজেলা প্রতিনিধি
একমাত্র চলাচলের পথ দখল হয়ে পড়ায় বগুড়ার শেরপুর উপজেলা-এর একটি গ্রামের মানুষ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়, বিষয়টি গড়িয়েছে থানায় সাধারণ ডায়েরি পর্যন্ত।
সীমাবাড়ী ইউনিয়নের কালিয়াকৈর চকগোলাম এলাকায় ব্রিটিশ আমলে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের প্রধান যাতায়াত পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। মৌজা কালিয়াকৈর চকগোলামের সাবেক দাগ নম্বর ১১০ ও বর্তমান দাগ নম্বর ৪৪০–এর এই সড়কটি সম্প্রতি দখলের কারণে অচল হয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির পশ্চিমাংশে একটি পুকুর খনন করে এক ব্যক্তি রাস্তার অংশ দখল করে নেন।
অপরদিকে পশ্চিম প্রান্ত থেকে বেটখর-কালিয়াকৈর মূল সড়ক পর্যন্ত প্রায় ১৮০ ফুট জায়গা যৌথ মালিকানাধীন হলেও সেখানে আরেক ব্যক্তি চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে পুরো সড়কটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর ফলে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া, শিশুদের স্কুলে পাঠানো এবং কৃষিকাজে মাঠে যাতায়াত করাও এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মো. রহমতুল বারী নিজের তিন শতাংশ জমি সীমাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন, যাতে নতুন রাস্তা নির্মাণ করা যায়।
তবে পুরোনো রাস্তা দখলমুক্ত না হওয়া এবং নতুন রাস্তার সঙ্গে মূল সড়কের সংযোগ না থাকায় উদ্যোগটি এখনো কার্যকর হয়নি। এদিকে রাস্তা ব্যবহারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হামলার শিকার হন কে. এম. জহুরুল হক (৬২)। তিনি গত ৭ এপ্রিল শেরপুর থানা-এ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী ও ভাগিস্বত্বভোগীরা তাকে রাস্তা ব্যবহার করতে বাধা দিচ্ছেন এবং গালিগালাজ, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। ভুক্তভোগী জহুরুল হক জানান, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের দাবি জানান তিনি। অভিযুক্তদের একজন নবীর উদ্দিন বলেন, রাস্তাটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালতের রায় অনুযায়ী তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। সীমাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ সরকার জানান, উভয় পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে সমাধান সম্ভব না হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।