ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
আসছে মঙ্গলবার বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। পুরনো বছরের গ্লানি মুছে নতুন সূর্যের আলোয় নতুন আশা, নতুন স্বপ্নকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত হচ্ছে জনপদ। গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই এখন উৎসবের আমেজ, ব্যস্ততা আর প্রস্তুতির ছোঁয়া।
নববর্ষকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হলো টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রস্তুতি সভা। এই যেন উৎসবের আগাম বার্তা পৌঁছে দিয়েছে সবার মাঝে। সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো এখন বাস্তবায়নের পথে—রাস্তা-ঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, বৈশাখি শোভাযাত্রার পরিকল্পনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মহড়া, গ্রামীণ মেলার আয়োজন—সবকিছুতেই দেখা যাচ্ছে সম্মিলিত উদ্যোগ।
পহেলা বৈশাখ মানেই কেবল একটি দিন নয়, এটি বাঙালির চিরন্তন সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। তাই এ উৎসবকে ঘিরে স্থানীয় শিল্পীরা ব্যস্ত তাদের পরিবেশনা প্রস্তুত করতে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও মেতে উঠেছে গান, নাচ আর আবৃত্তির মহড়ায়।
জনপদের লেগেছে উৎসবের ছোঁয়া। বৈশাখী পোশাক, মাটির তৈজসপত্র, হস্তশিল্প—সবকিছুতেই যেন লাল-সাদার উচ্ছ্বাস। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও আশাবাদী, নববর্ষ ঘিরে তাদের বেচাকেনা বাড়বে। বাঙ্গালীর উৎসবের আর মাত্র ১দিন বাকী। এক দিন পরেই বাংলাদের মানুষ মেতে উঠবে বৈশাখী উৎসবে।
অন্যদিকে, উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনও নিচ্ছে নানা উদ্যোগ। নিরাপত্তা জোরদার, যানজট নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যসেবা প্রস্তুত রাখা—সব মিলিয়ে একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল আয়োজন নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
ভূঞাপুরে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ভূঞাপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও ইব্রাহীম খাঁ সরকারি কলেজে চলছে স্টল বরাদ্দসহ নানা আয়োজন।চলছে মাঠ সাজানো প্রস্ততি।
পহেলা বৈশাখ কেবল ক্যালেন্ডারের নতুন দিন নয়—এটি নতুন করে বাঁচার, নতুন স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা। প্রস্তুতির এই দিনগুলোই বলে দেয়, বাঙালির হৃদয়ে নববর্ষের স্থান কতটা গভীর।
নতুন বছর আসুক আনন্দ, সম্প্রীতি আর সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে—এই প্রত্যাশাতেই প্রহর গুনছে পুরো জনপদ।