নড়াইল সংবাদদাতা
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং গণভোটের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের দাবিতে নড়াইলে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।
রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে জেলা শহরে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়ে ব্যানার-ফেস্টুনসহ একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুরাতন বাস টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নড়াইল জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাস্টার জাকির হোসেন বিশ্বাস এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ কায়সার।
সমাবেশে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ কায়সার তার বক্তব্যে বলেন, পূর্বে যারা সংবিধান, সংবিধান, সংবিধান বলে এ দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, আবার নতুন করে দেখতেছি সংবিধানের দোহায় দিয়ে এ দেশের ৭০% জনগণের যে রায়, সে রায়কে কার্যকরী করার পরিবর্তে নতুন করে যে ফ্যাসিবাদের জন্ম দেওয়ার জন্য পায়তারা করছে আমরা তীব্র ভাষায় এর প্রতিবাদ করতে চাই।
জুলাই সনদ এ দেশের জনগণের প্রাণের দাবি। কাজেই জনগণের ভোটে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদেরকে বিনয়ের সাথে বলতে চাই আপনারা সংবিধান সংস্কারের শপথ নিয়ে জাতি আপনাদের যে ম্যান্ডেট দিয়েছেন, সেই ম্যান্ডেটের দাবি অবশ্যই পূরণ করবেন। তা না হলে অতীতে যারা পালিয়ে গিয়েছে, তাদের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে হবে। এ দেশের ছাত্র, জনতা, কৃষক যে গণদাবি তুলেছে, সেই গণদাবি যদি মেনে না নেন, আবার রাজপথে নেমে আসবে। আপনার পালাবার পথ খুঁজে পাবেন না।
জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাস্টার জাকির হোসেন বিশ্বাস বলেন, দিল্লির চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। এ সরকার দিল্লির চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা সংবিধানকে দোহাই দিয়ে এ দেশের তাজা তরুণ যুবকদের হত্যার পথ বেছে নেওয়ার গন্ধ আমরা পাচ্ছি।
এ সরকার সংসদে সংবিধানের দোহাই দিয়ে ৭০% মানুষের গণভোটের গণরায়কে উপেক্ষা করছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পরিবর্তে তারা বাহাত্তরের সংবিধান সামনে এনে গণহত্যা চালানোর পায়তারা শুরু করেছে। এ দেশের মানুষ সেই সুযোগ আর দেবে না। এ দেশের ৭০% মানুষের রায় উপেক্ষা করে কোনো ষড়যন্ত্র আর হতে দেবে না।
এ দেশের যুবকদের রক্তে আগুন লাগার আগেই গণভোটের প্রতি শ্রদ্ধা দিয়ে জুলাই সনদের বাস্তবায়নের যে অঙ্গীকার নির্বাচনের আগে করেছিলেন, সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথ খুঁজে বের করুন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব ফারহাজ রানা,মুখ্য সংগঠক মো তুহিন মোল্লা, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য হেমায়েতুল হক হিমু, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির হাফেজ মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, জেলা জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক ড. খান আব্দুস সোবহান, যুব বিভাগের সভাপতি মোহাম্মদ খিয়াম উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।