তানোর (রাজশাহী) সংবাদদাতা
রাজশাহীর তানোরে বিএনপি নেতা সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কে ভাংচুরের ঘটনা ও মুল আসামী জালাল উদ্দীনসহ জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
তানোর উপজেলা ও পৌরসভার সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে শনিবার শেষ বিকেলের দিকে থানা মোড়ে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ সভা। পৌর বিএনপির আহবায়ক একরাম আলী মোল্লার সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আখেরুজ্জামান হান্নান, গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক আব্দুল মালেক, তানোর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সরনজাই ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক খান, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক প্রভাষক নুরুল ইসলাম, জেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক রবিউল ইসলাম অরন্য কুসুম, মুন্ডুমালা পৌর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব মোজাম্মেল হক , সাবেক সভাপতি মাওলানা আবুল কাশেম, পৌর বিএনপি নেতা রেজা মাস্টার।
উপজেলা যুবদলের আহবায়ক গোলাম মুর্তজার সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন পাঁচন্দর ইউপি বিএনপির সভাপতি প্রভাষক মজিবুর রহমান, পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন তোফা, ইয়াসিন আলী, উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক এমদাদ মন্ডল, পৌর যুবদলের আহবায়ক সাইদুর রহমান, যুগ্ম আহবায়ক নুর হাসান মাহমুদ রাজা, সদস্য সচিব জহুরুল ইসলাম, যুবদল নেতা আতিকুর রহমান লিটন, আবুল কাশেম, নজরুল ইসলাম, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের নেতা শরিয়তুল্লাহ, উপজেলা ছাত্র দলের নেতা শহিদুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক মাহফুজ, পৌর সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মাহবুর মোল্লা, ছাত্র দলের আহবায়ক শাহিন সরকার রঞ্জু প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে পরিকল্পিত ভাবে সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজানের আর্থিক ও নেতৃত্ব শূন্য করার লক্ষে ডিস ব্যবসা বরেন্দ্র ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কে হামলা ভাংচুর করে সবকিছু তচনচ করে দেয়া হয়। তিন ধরে বন্ধ থাকে কয়েক উপজেলার ডিস সম্প্রচার। তিন পর অক্লান্ত পরিশ্রমে সাময়িক ভাবে চালু হয়।
ভাংচুরের ঘটনার পরদিন ভাংচুর কারী কুঠিপাড়া গ্রামের হাসান আকীর জবানবন্দিতে তার চাচা একই গ্রামের জালাল উদ্দীন কে প্রধান আসামি ও ২০/২৫ জনকে অজ্ঞাত নামা করে ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের ম্যানেজার মাসুম বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রায় ১৮ দিন অতিবাহিত হলেও মুল আসামী সহ কোন কিনারা করতে পারেনি থানা পুলিশ। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে মুল আসামীসহ জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান বক্তরা। নচেৎ বৃহত্তর কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়।
বক্তরা আরো বলেন, যিনি ভাংচুর করেছেন তার জবানবন্দির প্রেক্ষিতে জালাল আসামি হয়েছে। আর এটা নিয়ে জামায়াত নোংরা রাজনীতি শুরু করেছেন। জালালকে কেন আসামী করা হল এবং তার নাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে গত ২৮ মার্চ জামায়াত নেতারা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সবা করে। তারা শান্ত তানোর কে নিয়ে অশান্ত রাজনীতি করতে চাই। আমরা প্রশাসনকে অনুরোধ করব যারা এর সাথে জড়িত সবাইকে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হোক। তাহলেও ঘটনার আসল রহস্য বের হয়ে আসবে।
আর যিনি ভাংচুর করেছিল সে হাসানকে পাগল বলা হচ্ছে, পাগল কোন দিন অস্ত্র নিয়ে এভাবে ভাংচুর করতে পারেনা। বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময় মিজানের নামে একাধিক মামলা ও জেল হলেও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একটা ইট পড়েনি। আর বিএনপি যখন রাস্ট্র ক্ষমতায় তখন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর করে প্রায় ৫৮ লাখ টাজার ক্ষতি করা হচ্ছে। যা তানোরের রাজনীতির ইতিহাসে বিরল এক ঘটনা। কারন মিজানকে ঘায়েল করতে পারলে অনেক কিছু নির্বিঘ্নে অর্জন করা যাবে। প্রতিবাদ সভা শেষে থানা মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও মহিলাসহ সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এসএম মাসুদ পারভেজ জানান, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান, আসামীকে গ্রেফতারে জোরালো অভিযান চলছে।
প্রসঙ্গত, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে পরিকল্পিত ভাবে সাবেক মেয়র মিজানের বরেন্দ্র ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কে হামলা ভাংচুর জরে তচনচ করা হয়। এঘটনায় হামলাকারীকে অস্ত্র সহ আটক করে পুলিশ। আটকের পর তার বিরুদ্ধে পুলিশ বাদি হয়ে অস্ত্র মামলা দায়ের করেন এবং হামলার পর দিন ডিস ব্যবসার ম্যানেজার মাসুম বাদি হয়ে কুঠিপাড়া গ্রামের জালালসহ অজ্ঞাত ২০/২৫ নামে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রায় ৫৮ লাখ টাকার ক্ষতি দেয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত মামলার আসামীকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।