লালমনিরহাট সংবাদদাতা
লালমনিরহাটে বাজার সিন্ডিকেটের প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় জনজীবনে চাপ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভরসার জায়গা হিসেবে বিবেচিত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম নিয়েই এখন উঠেছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সাম্প্রতিক অভিযানগুলো কার্যকর বাজার নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে না পেরে ‘লোক দেখানো’ কার্যক্রমে পরিণত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও নিত্যপণ্যের বাজারে বড় সিন্ডিকেট ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে খুচরা পর্যায়ে সীমিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এতে বাজারে স্থিতিশীলতা আসছে না বলে মনে করছেন ভোক্তা ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষের অনেকে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে শহরের রেলবাজার ও সেনা মৈত্রী হকাস মার্কেটে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগে জরিমানা করা হয়। তবে ওই সময় জ্বালানি সংকটের মধ্যেও একাধিক সরকারি যানবাহনের উপস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করেন স্থানীয়রা।
ভোক্তাদের অভিযোগ, বড় ব্যবসায়ী বা প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের সামান্য জরিমানা করে দায় সারছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মিশন মোড় এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একটি নির্দিষ্ট মহল বিভিন্ন সময় মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে এবং পরবর্তীতে অভিযানে প্রভাব বিস্তার করে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তাদের দাবি, এ ধরনের কার্যক্রমে বাজারের মূল সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। বিশেষ করে উৎসবকেন্দ্রিক বা নির্দিষ্ট সময়ে জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হলেও বছরের অধিকাংশ সময় বাজার তদারকিতে শিথিলতা লক্ষ্য করা যায়। ফলে অভিযানের পরপরই পণ্যের দাম আবার বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।
এছাড়া অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বা মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য উদ্ধার হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব টেকসই হচ্ছে না। কয়েকদিনের ব্যবধানে পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে অনেকেই এসব কার্যক্রমকে ‘আইওয়াশ’ বা লোক দেখানো উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সিনিয়র সাংবাদিক মিলন পাটোয়ারী বলেন, “জেলায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কার্যক্রম প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলপ্রসূ হচ্ছে না।”
সাংবাদিক হেলাল কবিরের ভাষ্য, “বর্তমান সংকটের সময়ে অভিযানের ধরন জনমনে আরও প্রশ্ন তৈরি করছে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শেখ সাদিদ বলেন, “আমরা কোনো সি’ন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত নই। নিয়মিতভাবে ধাপে ধাপে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ফল পেতে হলে বড় সি’ন্ডিকেট ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই। পাশাপাশি নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।