রংপুর মহানগরীর হারাগাছ থানায় দায়ের করা একটি চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র্যাবের যৌথ অভিযানে কুমিল্লা থেকে তাকে আটক করা হয়। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত (১৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে হারাগাছ থানায় হাজির হয়ে বাদী মোছাঃ আছিয়া বেগম (৩৮) একটি এজাহার দায়ের করেন। তিনি জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে প্রতিবেশী মোঃ সোলেমান ভাকরার বাড়িতে কাজ করতেন। ওই বাড়ির সদস্য মোঃ হাছেন আলী তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত (২৪ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ঘটনার একপর্যায়ে বাদী অন্তঃসত্ত্বা হলে গর্ভের চার মাস পূর্ণ হওয়ার পর আসামি তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দিতে থাকে এবং এতে অস্বীকৃতি জানালে বিয়ে না করা ও হত্যার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় বাদী মোট আটজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এজাহারের প্রেক্ষিতে হারাগাছ থানায় মামলা নং-০৯ (তারিখ: ১৯/১১/২০২৫), জিআর নং-১০৪, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/২০০৩) এর ৭/৯(১)/৩০ ধারা ও পেনাল কোডের ৩১৩/৩৪৭/৩৪/৫০৬(২) ধারায় মামলা রুজু হয়। মামলার তদন্ত চলাকালে গত (২০ নভেম্বর) তারিখে ৭নং আসামি মোঃ শফিকুল মিয়া (২৫) গ্রেফতার হয়ে আদালতে সোপর্দ হন। এরপর বাকি আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে র্যাব-১৩ রংপুর ও র্যাব-১১ কুমিল্লা ক্যাম্পের সহায়তায় গত (৯ জানুয়ারি) কুমিল্লা থেকে মামলার প্রধান আসামি মোঃ হাছেন আলী (৫০) কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর যথাযথ নিরাপত্তার মাধ্যমে তাকে হারাগাছ থানায় আনা হয় এবং (১১ জানুয়ারি) বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। হারাগাছ থানার পুলিশ জানায়, থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অপরাধ দমন ও পলাতক আসামি গ্রেফতারে নিয়মিত চেকপোস্ট তল্লাশি, মাদকবিরোধী অভিযানসহ বিশেষ অভিযান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


