বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজ
ফুটবল ভক্তদের প্রত্যাশা ও আবেগে নতুন করে আগুন জ্বালালেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তার বিশ্বাস, বাংলাদেশ একদিন ফুটবল বিশ্বকাপে খেলবে—এবং সেই দিনটি হয়তো খুব বেশি দূরে নয়।
গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক ভক্তের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন ফিফা সভাপতি। প্রশ্নটি ছিল সরল—‘বাংলাদেশ কি কোনো দিন বিশ্বকাপে খেলতে পারবে?’ উত্তরে ইনফান্তিনোর কণ্ঠে ছিল দৃঢ় আশাবাদ ও সম্মান।
তিনি বলেন, “অবশ্যই বাংলাদেশ ফিফা বিশ্বকাপে খেলতে পারে। ফিফার লক্ষ্যই হলো বাংলাদেশসহ যেসব দেশ এখনো বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি, তাদের জন্য সুযোগ তৈরি করা।” এই বক্তব্যে ফুটে ওঠে ফিফার দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি—একটি এমন বিশ্বকাপ, যেখানে ফুটবলের আনন্দ ও প্রতিযোগিতা বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে যাবে।
বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে ইনফান্তিনোর মূল্যায়ন ছিল আরও অনুপ্রেরণাদায়ক। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি দারুণ ফুটবলপ্রেমী দেশ। এখানে ফুটবলের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। দেশটির সত্যিই একটি সুযোগ আছে।” একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ফুটবল এবং ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের উন্নয়নে ফিফা উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করছে।
ফিফা সভাপতির এই বক্তব্য নিছক সৌজন্যমূলক মন্তব্য নয়; বরং বাস্তবতার প্রতিফলনও বটে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে, পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে ফুটবল অবকাঠামো।
ইনফান্তিনো আরও বলেন, “প্রতিভা সারা পৃথিবীতেই আছে। বাংলাদেশেও আছে। আমরা চাইছি, খুব শিগগিরই বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে দেখতে।”
তার এই সংক্ষিপ্ত অথচ শক্তিশালী বক্তব্যে লুকিয়ে আছে বিশাল এক অনুপ্রেরণা। ইনফান্তিনোর বিশ্বাস—প্রতিভা কোনো একক দেশের সম্পদ নয়, বরং পৃথিবীর প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে থাকা এক সম্ভাবনা। সেই সম্ভাবনাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরাই ফিফার দায়িত্ব।
ফিফার সাম্প্রতিক কার্যক্রমও সেই লক্ষ্যকে স্পষ্ট করে। বাংলাদেশে ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়ন, কোচিং শিক্ষা, রেফারি উন্নয়ন এবং তরুণদের ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে ফিফার বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শুধু মাঠে নয়, মাঠের বাইরেও তৈরি হচ্ছে ভবিষ্যতের বিশ্বমানের ভিত্তি।


