বরেন্দ্রকণ্ঠ ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকালে কোনো প্রার্থী বা তাদের এজেন্টের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ তো দূরের কথা, দেওয়া খাবারও গ্রহণ করতে পারবেন না পুলিশ সদস্যরা। এ বিষয়ে পুলিশ বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪১তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের (এএসপি) প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সবাইকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিরপেক্ষতার পরিচয় দিতে হবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচনে কোনো প্রার্থী বা এজেন্টের কাছ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা যাবে না। এমনকি দায়িত্ব পালনকালে কোনো প্রার্থীর প্রতিনিধি বা এজেন্টের দেওয়া খাবারও গ্রহণ করতে পারবেন না পুলিশ সদস্যরা।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। দেশের মানুষ এমন একটি পুলিশ বাহিনী প্রত্যাশা করে, যারা ভয় সৃষ্টি করে না; বরং জনগণকে সেবা দেয় এবং সম্মান ও ভদ্রতার সঙ্গে আচরণ করে।
দুর্নীতিকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, দুর্নীতি শুধু অর্থনীতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকেও ধ্বংস করে এবং রাষ্ট্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়।
পুলিশ সুপারদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, বেআইনি আদেশ কিংবা কোনো স্বার্থান্বেষী এজেন্ডার পক্ষে কাজ করা যাবে না। সততা, নৈতিকতা ও বিবেকই হবে একজন পুলিশ কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় পরিচয়। তিনি বলেন, সাহস মানে শুধু বিপদের মুখে দাঁড়ানো নয়; সাহস মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ‘না’ বলা, জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং মজলুমের পক্ষে দাঁড়ানো।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, পুলিশ যদি জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে, তাহলে আইন প্রয়োগ অনেক সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ অতিরিক্ত আইজিপি তওফিক মাহবুব চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কুচকাওয়াজে ৪১তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের ৮৭ জন, ২৮তম বিসিএসের ১ জন, ৩৫তম বিসিএসের ৩ জন, ৩৬তম বিসিএসের ১ জন, ৩৭তম বিসিএসের ২ জন এবং ৪০তম বিসিএসের ২ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।


