বদলগাছী (নওগাঁ) সংবাদদাতাঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর–বদলগাছী) আসনের রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় অবশেষে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হলেন পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) গভীর রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে বহিষ্কারের আদেশ জারি করা হয়। আদেশে তাঁকে মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে দলীয় গঠনতন্ত্রের ৫ (গ) ধারা অনুযায়ী প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব ধরনের দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বহিষ্কৃত পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর–বদলগাছী) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘কলস’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উল্লেখ্য, তিনি সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও বিএনপির প্রভাবশালী নেতা আখতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে হওয়ায় এই বহিষ্কার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না থাকলেও দলীয় ও স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিপরীতে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়াকেই সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার অংশ হিসেবেই কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি।
এদিকে বহিষ্কারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি মুঠোফোনে বলেন,
“এ বিষয়ে আমি এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি দেখিনি। লোকমুখে শুনেছি। বহিষ্কার রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ। যেহেতু আমি ধানের শীষের বিপক্ষে নির্বাচন করছি, তাই আইন অনুযায়ী বহিষ্কার আসবে—এটাই স্বাভাবিক।”
তিনি আরও বলেন,
“নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এখানে প্রার্থী থাকবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে। জনগণই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। জনগণের দাবিতেই এবং তাদের চাপেই আমি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি।”
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও জনির বহিষ্কার নওগাঁ-৩ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই সিদ্ধান্ত ভোটের মাঠে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।


