রম্য লেখক, আমিনুল হকঃ
রাজধানী ঢাকা- ৫২ রাস্তার ৫৩ গলির শহর। এই ব্যস্ত নগরে প্রতিদিন হাজারো অটো সিএনজি ছুটে চলে জীবিকার তাগিদে ।
যাত্রী ওঠে, নামে- ভাড়া নিয়ে দর কষাকষি হয়- এটাই শহরের চিরচেনা চিত্র । তবে এই ভিড়ের মধ্যেই নীরবে মানবতার আলো জালিয়ে চলেছে একজন অটো সিএনজি চালক দুলাল চন্দ্র দাস বয়স ৪৫ স্থায়ী বাড়ি সাভারে হলেও জীবিকার প্রয়োজনে থাকেন রাজধানীর গাবতলী।
প্রতিদিন গাবতলী ও আশপাশের এলাকায় অটো সিএনজি চালান তিনি। কিন্তু দুলাল দাস শুধু একজন চালক নন- তিনি অনেক অসহায় মানুষের কাছে আশ্রয় ও ভরসার নাম ।
অসুস্থ, বৃদ্ধ যাত্রী কিংবা বিপদে পড়া কেউ ভাড়া নিয়ে তাঁর সঙ্গে দর কষাকষি করতে হয় না। হাসপাতালে যেতে হবে, কিন্তু পকেটে টাকা নেই- এমন পরিস্থিতিতে দুলাল দাস ভাড়ার কথা তুলতেই চান না। বিনা ভাড়ায় তিনি পৌছে দেন হাসপাতালে বা বাসায়। কখনও নিজের সময়, কখনও নিজের আয়- সব ই বিলিয়ে দেন অসহায় মানুষের জন্য ।
দুলাল দাসের এই মানবিক কাজ কোন একদিনের ঘটনা নয়। ২০২০ সাল থেকে তিনি নীরবে এই মানবিক সেবা করে যাচ্ছেন। প্রচার বা স্বীকৃতির কোন প্রত্যাশা নেই তাঁর । তবুও তাঁর মানবিক কর্ম কান্ড ইতিমধ্যে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে বিভিন্ন মহলে। জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠান ইত্যাদিসহ বিভিন্ন গন মাধ্যমে তাঁর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ তুলে ধরা হয়েছে ।
সম্প্রতি দুলাল দাসের সাথে দেখা হয় এই প্রতিনিধির । তাঁর ভাষায় ” আমি বড় কিছু করছি না, মানুষ তো মানুষের জন্যই । আজ সে অসহায়, কাল আমিও হতে পারি।”
যাত্রীদের অনেকেই তাঁকে মনে রাখেন কৃতজ্ঞতার সঙ্গে । কারও মতে, ঢাকার মতো ব্যস্ত শহরে দুলাল দাস এখনও বিশ্বাস জাগিয়ে রেখেছেন। কেউ বলেন, এই শহরে মানবিকতা পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি- তার জীবন্ত প্রমান দুলাল চন্দ্র দাস ।
যেখানে নগরজীবন দিন দিন আরও যান্ত্রিক হয়ে উঠছে, সেখানে দুলাল দাসের মতো মানুষ আমাদের মনে করিয়ে দেয়- মানবতা এখনও বেঁচে আছে। রাজধানীর হাজারো অটো সিএনজি চালকের ভিড়ে তিনি সত্যি ব্যাতিক্রম- একজন মানবিক অটো সিএনজি চালক।


