নাজমুল হক, সিরাজগঞ্জঃ
শাহজাদপুর ( সিরাজগঞ্জ) উপজেলার বুক চিরে বয়ে চলা হুরাসাগর নদী এক সময় ছিল এ জনপদের প্রান। নদীর গভীরতা ও বিস্তৃতির কারনে যার নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল ” সাগর” শব্দটি– সেই হুরাসাগর আজ অস্তিত্ব সঙ্কটে । কালের বিবর্তন আর দখল দূষণে নদীটি হারাচ্ছে তার নাব্যতা, হারাচ্ছে তার স্বাভাবিক রাপ ।
হুরাসাগর নদী হল যমুনার একটি শাখা নদী। এর দৈর্ঘ ২০ কিলোমিটার । প্রস্ত ৬০ মিটার। আর এ নদী অববাহিকার আয়তন ৩০০ বর্গ কিলোমিটার ।
স্থানীয় প্রবীনদের স্মৃতিতে হুরাসাগর মানেই ছিল প্রমত্ত জলধারা । বর্ষা মৌসুমে ফুলেফেঁপে ওঠা নদীর থৈ থৈ পানি দেখে মানুষ সাগরের সাথে তুলনা করে নামকরন করেছিল হুরাসাগর । সেই নদীতে চলতো বড় বড় পাল তোলা নৌকা, স্টীমার, নৌ যোগাযোগের অন্যতম নৌপথ ছিল, আর ছিল এলাকার কৃষি আবাদের পানির উত্স হুরাসাগর । প্রচুর মাছও ধরা পরতো জেলেদের জালে। কিন্তু সেই দৃশ্য আর নেই । হুরাসাগর এখন মৃত প্রায় । শুষ্ক মৌসুমে শুকিয়ে যায় । নদীর বুকে হাঁটাচলা করা যায় — যা এক সময় ছিল কল্পনাতীত।
স্থানীয়রা বলছেন, নদীর নাব্যতা না থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষিও মতসো আহরনে। নদীর তীরে বসতি স্থাপনা গড়ে ওঠায় নদীটি সঙ্কুচিত হয়ে পরেছে। এতে নদীর প্রশস্ততা কমছে। এ কারনে নদীর পানি ধারন ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে ।
পরিবেশবিদরা বলছেন, হুরাসাগরের মতো একটি নদী শুধু পানি বহন করে না, এটি একটি পুরো অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করে । নদী শুকিয়ে গেলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায় । এতে জীববৈচিত্র ধবঙস হয় ।
স্থানীয়দের দাবী, নদীটি রক্ষায় পরিকল্পিত উদ্যোগ ও নজরদারি চালানো হোক। যাতে হুরাসাগর আবারও প্রান ফিরে পায় ।


