শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
সমাজে যখন ব্যক্তিস্বার্থ আর আত্মকেন্দ্রিকতা প্রবল, তখন কিছু মানুষ আলোকবর্তিকা হয়ে পথ দেখান। তেমনই একজন অকুতোভয় ও মানবিক প্রাণ মোঃ হান্নান হোসেন সাগর। মানুষের উপকার করা যার কেবল ইচ্ছা নয়, বরং জীবনের প্রধান নেশা। নিজের শ্রম, মেধা ও ত্যাগের মাধ্যমে তিনি অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
হান্নান হোসেন সাগরের সেবামূলক কাজের পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। তার উল্লেখযোগ্য কিছু মানবিক কর্মকাণ্ড নিচে তুলে ধরা হলো:
চিকিৎসা সেবা: অর্থাভাবে যারা নূন্যতম চিকিৎসা পান না, তাদের জন্য তিনি নিয়মিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করেন। এর মাধ্যমে হাজারো অসহায় মানুষ বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ও ঔষধ পাচ্ছেন।
রক্তদানে উদ্যোগ: মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে তিনি একাই প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ ব্যাগ রক্ত দান ও সংগ্রহের ব্যবস্থা করেছেন। রক্তদানের এই অসামান্য অবদান তাকে এই অঞ্চলের মানুষের কাছে এক আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছে।
মৌসুমী সহায়তা: হাড়কাঁপানো শীতে তিনি হয়ে ওঠেন দুস্থদের উষ্ণতার আধার। হাজার হাজার মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ এবং পবিত্র ঈদে সাধারণ মানুষের আনন্দ ভাগ করে নিতে লাচ্ছা সেমাই ও খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন দ্বারে দ্বারে।
মৌলিক চাহিদা নিশ্চিতকরণ: নিরাপদ পানির সংকট নিরসনে তিনি এ পর্যন্ত ২৩টি টিউবওয়েল স্থাপন করেছেন। এছাড়া আশ্রয়হীন পরিবারের জন্য ঘর তৈরি করে দিয়ে তিনি মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিয়েছেন অনেককে।
সামাজিক দায়বদ্ধতা: সমাজের অভিশাপ যৌতুকমুক্ত সমাজ গড়তে এবং দরিদ্র পিতাকে সহায়তা করতে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে গরীব মেয়ের বিয়ের যাবতীয় খরচ বহন করে থাকেন।
দুর্যোগের অকুতোভয় সারথি
দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ—বন্যা হোক কিংবা মহামারি—সাগর সবার আগে স্বেচ্ছায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। ত্রাণ বিতরণ থেকে শুরু করে উদ্ধারকাজ, সবখানেই তার সরব উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। প্রচারের আলোয় আসার চেয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তার কাছে মূল সার্থকতা।
”মানুষ মানুষের জন্য”—এই চিরন্তন বাণীটি যেন মোঃ হান্নান হোসেন সাগরের প্রতিটি কাজে মূর্ত হয়ে ওঠে। তার এই মানবিক পথচলা কেবল সমাজকে ঋণী করছে না, বরং তরুণ প্রজন্মের কাছে এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।
মোঃ হান্নান হোসেন সাগরের মতো সাদা মনের মানুষরাই সমাজের আসল বীর। সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার পাশাপাশি তার মতো ব্যক্তিউদ্যোগে যদি আরও অনেকে এগিয়ে আসেন, তবে এই পৃথিবী হবে আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য।


