ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নওগাঁর ভোটকেন্দ্রগুলোতে দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়াও শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার ছয়টি আসনের বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্র ঘুরে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ নিজ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট দিতে দেখা গেছে।
সারা দেশের মতো গতকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নিরবিচ্ছন্নভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নওগাঁ-৫ (নওগাঁ সদর), নওগাঁ-৪ (মান্দা), নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর ও বদলগাছী) ও নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার) আসনের অন্তত ৩০টি ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সকালে শুরুর দিকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের ব্যাপক একটা চাপ ছিল। অধিকাংশ কেন্দ্রেই ভোটকক্ষের সামনে ভোটারদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। তবে দুপুরের দিকে দুই-একটি কেন্দ্র ছাড়া অধিকাংশ কেন্দ্রেই ভোটারদের উপস্থিতি কমে আসে। তবে ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময়ের কিছু আগে থেকে কেন্দ্রগুলোতে আবারও ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ে। অনেক কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ের পরেও ভোটারদের উপস্থিতি দেখা গেছে।
রিটার্র্র্র্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত গড়ে ভোট পড়েছে ৬২ দশমিক ৮ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে নওগাঁ-২ (পতœীতলা ও ধামইরহাট) আসনে ৬৯ শতাংশ। সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে ৫৫ শতাংশ। এছাড়া নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার) আসনে ৬৮ শতাংশ, নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর ও বদলগাছী) আসনে ৬১ শতাংশ, নওগাঁ-৫ (নওগাঁ সদর) আসনে ৫৯ শতাংশ ও নওগাঁ-৬ (রাণীনগর ও আত্রাই) আসনে ৬৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।
অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চললেও নওগাঁর সংসদীয় আসনের কোনোটিতে বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এজেন্ট ছাড়া বাকি প্রার্থীদের এজেন্ট চোখে পড়েনি। নওগাঁর ছয়টি আসনে বিএনপি, জামায়াতসহ ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
সবচেয়ে বেশি প্রার্থী রয়েছে নওগাঁ-৩ আসনে আটজন। গতকাল সরেজমিনে আসনটির অন্তত ১০টি ভোটকেন্দ্র ঘুরে বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাড়া অন্য প্রার্থীদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি।
দুপুর ১২টার দিকে আসনটির মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ওই কেন্দ্রের সাতটি বুথের সব কটিতেই শুধু বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্ট রয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে একই চিত্র দেখা যায়, নওগাঁ-১ আসনের বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে। ওই আসনের নিয়ামতপুর উপজেলার রামনগর উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, নওগাঁ-১ আসনে ছয়জন প্রার্থী থাকলেও তাঁর কেন্দ্রে শুধু তিনজন প্রার্থী তাঁদের পোলিং এজেন্ট দিয়েছেন। ওই কেন্দ্রে ৯টি বুথের ৯টিতেই বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা তাঁদের পোলিং এজেন্ট দিয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোটরসাইকেলের প্রতীকের পক্ষে পোলিং দিয়েছে সাতটি বুথে।
ফলাফল শিটে আগেই স্বাক্ষর নেওয়ায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার: নওগাঁ-৫ আসনের নওগাঁ সদর উপজেলার কাঠখৈর উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট গণনার আগের ফলাফল শিটে পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষর নেওয়ায় অভিযোগ উঠায় ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়।
প্রত্যাহার হওয়া ওই প্রিসাইডিং কর্মকর্তার নাম নাজিম উদ্দিন। তিনি নওগাঁ সড়ক ও জনপদ বিভাগে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন।
ওই কেন্দ্রের পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোটগ্রহণ চলাকালেই নির্ধারিত ফলাফল শিটে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিজের স্বাক্ষর ও পদবি সম্বলিত সিল দিয়ে রাখেন। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে ভোটগণনা সম্পন্ন করে ফলাফল শিট পূরণ ও স্বাক্ষর করার কথা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রত্যাহার হওয়া প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নাজিম উদ্দীন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল প্রস্তুত করতে সময় লাগে এবং কখনো সময় সংকট দেখা দিতে পারে। কাজের সুবিধার্তে ও সময় সাশ্রয়ের চিন্তা থেকে আগেই স্বাক্ষর করে রেখেছিলাম। তবে এটি নিয়মসম্মত কি না, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।’
এ বিষয়ে নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইবনুল আবেদিন জানান, ভোটগণনার আগে ফলাফল শিটে স্বাক্ষর করার কোনো বিধান নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ওই কেন্দ্রের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে সেখানে কর্মরত একজন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।


