কঠিন উইকেটে ১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ‘সুপারম্যানের মতো’ খেলার চেষ্টা করাতেই ভারতের বিপক্ষে ব্যাটিং ধসে পড়েছে পাকিস্তান— এমনটাই মনে করেন দলের কোচ মাইক হেসন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বহুল আলোচিত ম্যাচে রোববার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারত তোলে ২০ ওভারে ১৭৫ রান। কঠিন ব্যাটিং উইকেটে শুরুতেই আভিশেক শর্মার উইকেট হারালেও দারুণ পাল্টা আক্রমণে ৪০ বলে ৭৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন ইশান কিষান। পুরো ইনিংসে তিনিই ছিলেন ব্যতিক্রম; অন্য কোনো ব্যাটসম্যান স্বাভাবিকভাবে খেলতে পারেননি।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। ভারতের শৃঙ্খল বোলিংয়ের সামনে ধুঁকতে ধুঁকতে ১১৪ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। শুরুতে দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে পড়ে দলটি। এর মধ্যে জাসপ্রিত বুমরাহ-র দারুণ সুইং ইয়র্কারে আউট হন সাইম আইয়ুব। সাহিবজাদা ফারহান ও অধিনায়ক সালমান আলি আগা বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেট দেন, আর সাধারণত ধৈর্যশীল ব্যাটসম্যান বাবর আজমও স্লগ করতে গিয়ে বিদায় নেন পঞ্চম ওভারে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হেসন বলেন, কঠিন উইকেটে বড় লক্ষ্য দেখেই ব্যাটসম্যানদের মানসিকতায় পরিবর্তন আসে।
তার ভাষায়, লক্ষ্যটা বড় মনে হলে খেলোয়াড়দের মধ্যে এমন ভাবনা তৈরি হয় যেন ‘সুপারম্যানের মতো’ খেলতে হবে এবং দ্রুত ম্যাচ এগিয়ে নিতে হবে, যা উল্টো বিপদ ডেকে আনে।
তিনি আরও বলেন, দল শুরুতেই এমন শটে উইকেট হারিয়েছে, যেগুলো এই ধরনের উইকেটে খেলা খুব কঠিন। দ্রুতগতির উইকেটে হয়তো একই শট কার্যকর হতে পারত, কিন্তু এই কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়াটাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক মাসে ভিন্ন কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে ভালো করলেও এ ম্যাচে দল আবার পিছিয়ে গেছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
টস জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠলেও কোচ এতে ভুল দেখছেন না। তার মতে, পিচ ছিল নরম এবং প্রথম ইনিংসে বল বেশি টার্ন ও স্কিড করছিল, তাই আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত যৌক্তিকই ছিল।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে হারের পর ড্রেসিং রুমে হতাশার ছাপ রয়েছে জানিয়ে হেসন বলেন, খেলোয়াড়রা জানে এই ম্যাচ পাকিস্তানের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে টুর্নামেন্ট এখনো শেষ হয়নি এবং দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর ওপরই জোর দিচ্ছে দল।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বুধবার নামিবিয়ার মুখোমুখি হবে পাকিস্তান। সুপার এইট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করতে সেই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই সালমান আলি আগার দলের।


