ডেস্ক রিপোর্টঃ
নওগাঁয় আগুনে পুড়ে ছাই হলো ৪টি পরিবারের বাড়ি ঘড়। ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৪টি পরিবারের বাড়ি ঘড় সহ তাদের সম্পূর্ন আসবাব পত্র ও গৃহে পালিত হাঁস-মুরগিও আগুনে পুড়ে হয়েছে ছাই।
অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার ২০ ফেব্রুয়ারী দিনগত রাতে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দক্ষিন আন্ধারকোটা গ্রামের মৎস্যজীবি পাড়ায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানিয়রা জানান, শুক্রবার দিনগত রাতে গ্রামের লোকজন মসজিদে তারাবি নামাজ পড়ছিলেন সে সময় প্রথমে গ্রামের আসলাম (৫৫) এর বাড়িতে আগুন লেগে তা মহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে ৪টি পরিবারের বাড়ি-ঘড়ে।
এমন অবস্থায় ঐ পরিবারের নারী ও শিশুদের ডাক-চিৎকারে আশে পাশের বাড়িতে থাকা নারী ও শিশুরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এসে তারাও ডাক চিৎকার শুরু করলে মসজিদ থেকে গ্রামের লোকজন বেড়িয়ে এসে প্রথমে নিজেরাই আগুন নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন এবং আগুনের ভয়াভয়তা দেখে গ্রামের লোকজন দিশেহারা অবস্থায় ফায়ার সার্ভিস, জরুরী সেবা ৯৯৯ সহ বিদ্যুৎতের লাইন বন্ধের জন্য চৌমাশিয়া পল্লি বিদ্যুতের সাব স্টেসনে ফোন দিয়ে ঘটনাটি জানায় এবং গ্রামের লোকজন যে যার মতো করে বালতি যোগে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলের পাশে থাকা ডোবাই গ্রামের ওবাইদুল নামে এক ব্যাক্তির পানি সেচের শ্যালো মেশিন সেট করে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করলেও ততক্ষণে ঐ গ্রামের আসলাম হোসেন, আজিজ, এরশাদ আলী ও আছির উদ্দীনের মোট ৪টি পরিবারের বাড়ি-ঘড় ও বাড়ি ঘড়ে থাকা সব কিছু পুড়ে ছাই হয়েগেছে।
এমনকি বাড়ি গুলোতে থাকা হাঁস-মুরগি ও পড়ে ছাই হয়েগেছে বলেও স্থানিয়রা প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর ফাঁয়ার সার্ভিস পৌছান বলেও অভিযোগ করেন গ্রামের লোকজন। এব্যাপারে জানতে চাইলে মহাদেবপুর ফায়ার সার্ভিস থেকে প্রতিবেদককে জানানো হয়, রাতে জৈনক মোহাম্দদ আব্দুল খালেক নাকে এক ব্যাক্তি ০১৫১৬-৭২৩০৯৯ নম্বর থেকে অগ্নিকান্ডের খবর দেয়।
খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমাদের ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে সরস্বতীপুর বাজার এলাকায় পৌছালে খবরদাতা ব্যাক্তি নিজেই ফের ফোন দিয়ে জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে আপনাদের আসতে হবে না এমন কথাশুনে সরস্বতীপুর বাজার থেকে আমাদের ইউনিট ফিরে আসে। তবে জরুরী সেবার নাম্বার থেকে ফোন পেয়ে নওগাঁ থেকে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট গিয়েছিলো বলেও জানান।
দক্ষিন আন্ধারকোটা গ্রামের বাসিন্দা পশু চিকিৎসক আইনাল জানান, আমরা মসজিদে তারাবি নামাজ পড়ার সময় ডাক- চিৎকার শুনে কেউ ৮ রাকাআত কেই ১০-১২ রাকাআত নামাজ পড়েই ছুটে এসে আগুনের লেলিহানের ভয়াভয়তা দেখে বিদ্যুৎ লাইন বন্ধের জন্য, বিদ্যুৎ অফিস, ফায়ার সার্ভিস ও জরুরী সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে ঘটনাটি জানানো হয় এবং এক পর্যায়ে গ্রামের ওবাইদুলের শ্যালো মেশিন সেট করে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা হলেও ৩টি পরিবারের সম্পূর্ন বাড়ি-ঘড় ও আসবাব-পত্র সব ও একটি পরিবারের অর্ধেক পুড়ে ছাই হয়েছে এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরো জানান, খবর পেয়ে রাতেই মহাদেবপুর থানা ও নওহাটা ফাঁড়ি পুলিশ সহ আমাদের ভীমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাম প্রসাদ ভদ্র ঘটনাস্থলে এসেছেন।
এব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান রাম প্রসাদ ভদ্র প্রতিবেদককে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে দেখি অগ্নিকান্ডে ৪টি পরিবারের বাড়ি-ঘড় সহ সব কিছু পুড়ে যাওয়ায় তারা একেবারে নিস্ব হয়ে পড়েছেন।


