শেরপুর ( বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
বগুড়া শেরপুরের জুয়ানপুর এলাকায় অবস্থিত ‘ সোনাভান বয়স্ক পূণবার্সন কেন্দ্র ‘।এখানকার বাসিন্দারা এমন কিছু মানুষ, যাদের জীবনের শেষবেলায় আপনজনদের সান্নিধ্য জোটেনি। সেইসব অবহেলিত ও অসহায় বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে এবং তাদের সাথে কিছুটা সময় কাটাতে এগিয়ে এল স্থানীয় জনপ্রিয় সেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘দৌড় পরিবার’।
২১শে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মাহেন্দ্রক্ষণে সংগঠনটি বৃদ্ধাশ্রমের প্রবীণ নিবাসীদের সাথে নিয়ে এক বিশেষ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে।
সচরাচর বৃদ্ধাশ্রমের দিনগুলো নিভৃতে কাটলেও এদিন চিত্র ছিল ভিন্ন। দৌড় পরিবারের একদল উদ্যমী তরুণ সদস্যরা দুপুর থেকেই বৃদ্ধাশ্রমে উপস্থিত হন। তারা সেখানকার প্রবীণদের সাথে গল্প করেন, তাদের সুখ-দুঃখের কথা শোনেন এবং এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ইফতারের সময় যখন ঘনিয়ে আসে, তখন সংগঠনের সদস্যরা নিজ হাতে প্রবীণদের প্লেটে খাবার সাজিয়ে দেন। একসাথে বসে ইফতার করার এই মুহূর্তটি বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দাদের জন্য ছিল অত্যন্ত আবেগের। অনেক প্রবীণ সদস্য অশ্রুসিক্ত চোখে জানান, জীবনের এই প্রান্তে এসে একঝাঁক তরুণের সাথে এভাবে ইফতার করতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। তারা যেন কিছুক্ষণের জন্য ফিরে পেয়েছিলেন তাদের হারানো সন্তানদের ছোঁয়া।
’দৌড় পরিবার’-এর সদস্যরা জানান, সমাজসেবা কেবল সাহায্য দেওয়া নয়, বরং অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মানসিক শক্তি জোগানোই তাদের মূল লক্ষ্য। মাতৃভাষা দিবসের দিনে এই বাবা-মায়েদের সাথে সময় কাটাতে পেরে তারা গর্বিত ও তৃপ্ত।
”আমরা চাই না কোনো বাবা-মা বৃদ্ধাশ্রমে থাকুক, কিন্তু যারা সেখানে আছেন, তারা যেন নিজেদের একা মনে না করেন। তাদের মুখে একটু হাসি ফোটানোই আমাদের সার্থকতা।”
শেরপুরের ‘দৌড় পরিবার’-এর এই উদ্যোগ স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের এমন মানবিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধাশ্রমের অসহায় মানুষদের প্রতি সমাজের দায়বদ্ধতাকে আরও একবার স্মরণ করিয়ে দেয়।


