বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মাত্র ৪ ফিট দূরত্বে রাতের আধারে খনন করা হচ্ছে পুকুর। আর এই পুকুরের মাটি যাচ্ছে এনআরবি ইট ভাটায় (আরিফের ভাটায়) মাটি পরিবহনের জন্য ট্রাক্টার ও মাটি খননের জন্য এস্কেভেটর (ভেকু) মেশিন ব্যবহার হচ্ছে মিঠাপুর ইউনিয়নের মাটি বাবসায়ী সৈকতের।
আর এই পুকুর খনন করছেন মিঠাপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক ও মিঠাপুর হাই স্কুলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। হঠাৎ এই পুকুর খননের কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মিঠাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে প্রায় এক একর জমিতে বিশাল গর্ত করে পুকুর খনন শুরু করা হয়েছে। পুকুরটির দক্ষিণ পাশে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য রয়েছে পাকা রাস্তা আর উত্তরে রয়েছে মিঠাপুর দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিল্ডিং থেকে মাত্র ৪ ফিট দূরেই খনন করা হচ্ছে এই পুকুরটি। খননের গভীরতা হবে নাকি ১৫ থেকে ২০ ফুট। ফলে শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ বিপজ্জনক মনে করছেন অভিভাবক সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
জানাযায়, যে জায়গাই পুকুরটি খনন করা হচ্ছে সেই জায়গাটি মিঠাপুর দ্বী-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সেটি একটি ডোবার মতো হয়ে পরে আছে দীর্ঘদিন থেকে তার পাশেই অবস্থিত মিঠাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। আর সে কারণে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ওই ডোবাটি ভরাট করার জন্য আর খনন করা হয়নি চেষ্টা করা হচ্ছিল যে কোনো ভাবে সেটি ভরাটের জন্য।
কিন্তু ২০২৪ ইং সালের জুলাই আন্দোলনের পর মিঠাপুর হাই স্কুলের সভাপতি হন মিঠাপুর ইউনিয়নের বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক আনেয়ার হোসেন এবং তৈরি করেন তার একটি নিজ বাহিনী।
এই আনোয়ার হোসেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১৭ই ফেব্রুয়ারি রাত থেকে গায়ের জোড়ে তার নিজ বাহিনী দিয়ে সেখানে পুকুর খননের কাজ শুরু করেন।
অভিভাবকেরা বলছেন, যেভাবে পুকুরটি খনন করা হয়েছে, তাতে ছোট শিশুরা যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। তাই আমরা সবাই আতঙ্কে রয়েছি। আমরা এই পুকুর খননটি বন্ধ করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিদ্যালয়ের শিশুদের নিরাপত্তা না পাওয়া গেলে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী না পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। তাই দ্রুত পুকুর-খনন বন্ধ করা জরুরি।
মিঠাপুর সরকারি প্রাথমিক দিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিব বলেন, পুকুর খননের সময় আমার স্কুলের সব শিক্ষকরা সেখানে খনন করতে নিষেধ করে ছিলেন আনোয়ার হোসেন কে কিন্তু সে কোন কথা শোনেনি। আমি সাথে সাথে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি অবগত করেছি। তিনি আরো বলেন,স্কুলের সামনে পুকুর খনন করা হলে যে কোন সময় শিশু ছাত্র-ছাত্রীদের বড় ধরণের দূঘর্টনা ঘটতে পারে।
সরকারি প্রাইমারি স্কুলের সামনে আপনি পুকুর খনন করছেন বলে জানতে চাইলে মিঠাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও মিঠাপুর দ্বী-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, জমিটি হাই স্কুলের আমি সেই স্কুলের সভাপতি তাই স্কুলের স্বার্থে পুকুর খনন করছি। মাটি ইটভাটাতে বিক্রি করছেন কেন বলে অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন এমপি ও দেশের সরকার আমাদের স্কুলের স্বার্থে মাটি ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে তাতে আপনাদের কি।
পুকুর খননের জন্য প্রশাসনের কাছ থেকে কোন অনুমতি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা আপনি নিয়েছেন কিনা বলে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সবে মাত্র এই রাতে উপজেলার ইউএনও আমাকে ফোন দিয়ে ছিল তিনি আমাকে বললেন এখন মাটি কাটা বন্ধ রাখুন। আগামীকাল হাই স্কুলের পক্ষ থেকে পুকুর খননের জন্য আমাকে একটি দরখাস্ত দিয়েন। তারপর পুকুর খনন করবেন।
মিঠাপুর দ্বী-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলায়েত বলেন, ওই জায়গাটি আমাদের স্কুলের। সেখানে কি আপনি পুকুর খনন করছেন, সেখানেতো একটি ডোবা ছিল বলে প্রশ্ন করলে তিনি সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমাদের স্কুলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন সেখানে সংস্কার করে পুকুর বানাবেন বলে খনন করছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমিরুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি জেনেছি এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করেছি। তিনি আরো বলেন ঐ জায়গায় পুকুর খনন হলে যে কোন সময় ঘটতে পারে দূঘর্টনা।
বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুকুর খনন কাজ বন্ধ করতে বলেছি।


