নাজমুল হক, সিরাজগঞ্জ :
সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার জামিরতা হাটের উত্তর কোনে দাঁড়িয়ে আছে এক প্রাচীন সাক্ষী- পাকড় গাছ। কেউ বলেন গাছটির বয়স দেড়’শ বছর, কেউবা বলেন দু’শতাব্দীরও বেশী। নির্দিষ্ট হিসাব যাই হোক, এ গাছটির প্রতিটি ডাল, প্রতিটি শেকড় যেন বহন করছে বিভিন্ন সময়ের গল্প আর মানুষের স্মৃতি।
হাটে আসা ক্রেতা, বিক্রেতাদের কোলাহল, হাক-ডাক মানুষের আনাগোনা আর গ্রামের যাপিত জীবনের সাথে মিশে আছে মহীরুহ এ বৃক্ষটি। বিশাল বিশাল কান্ড আর ঝুলন্ত শিকড়ের জালে গাছটি যেন নিজেই এক জীবন্ত ইতিহাস ।
বহু বছর অগে এ এলাকায় মানুষের যাতায়াত ছিল সীমিত, তখন এ গাছের ছায়াতেই ক্লান্ত পথিকেরা বিশ্রাম নিতেন। অনেকের অলস সময় কাটত এখানে, বিনিময় হত গল্প, অভিজ্ঞতা আর জীবনের সুখ দুঃখের নানা দিক।
জামিরতা হাটের প্রবীনেরা বলেন, এক সময় এ পাকড় গাছটি ছিল গ্রামের মানুষের মিলনস্থল। সামাজিক নানা সিদ্ধান্ত, গ্রাম্য সালিশ, দরবার মিটমাট হতো এর ছায়াতলেই। গাছটি যেন শুধু বৃক্ষ নয়, বরং এটি সামাজিক কেনদ্র, যেখানে গড়ে উঠেছে যুগযুগান্তর মানুষের সম্পর্ক আর ঐতিহ্য।
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের পাশাপাশি এ গাছটি পরিবেশের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। পাখিরা এখানে আশ্রয় নেয়,গরমকালে দেয় শীতল ছায়া আর বাতাসকে করে তোলে নির্মল । আধুনিকতার ছোঁয়ায় যখন গ্রামবাংলার অনেক পুরোনো বৃক্ষ, নিদর্শন হারিয়ে যাচ্ছে, তখন এ পাকড় গাছটি এখনও দাঁড়িয়ে আছে দারুণভাবে, অতীতের স্মৃতি বুকে নিয়ে ।
তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষগুলোর যথাযথ সংরক্ষণে তেমন উদ্যোগ চোখে পড়ে না। বিশিষ্ট পরিবেশ গবেষক ডক্টর গোলাম আহমেদ বলেন, “এ গাছটিকে একটি ঐতিহ্যের সাক্ষী হিসেবে পরিচর্যা করা উচিত, যাতে আরও অনেক দিন গাছটি দিয়ে যেতে পারে নির্মল বাতাস আর শীতল ছায়া।”
জামিরতা হাটের প্রাচীন এ পাকড় গাছ তাই শুধু একটি গাছ নয়, এটি কালের সাক্ষী, ইতিহাসের ধারক এবং গ্রামীন জীবনের অনন্য প্রতীক।
এ গাছের ছায়ায় লুকিয়ে আছে শত বছরের গল্প, যা আজও নি:শব্দে বলে যায়, বাংলার চিরচেনা গ্রামজীবনের কথা।


