বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর বদলগাছী সরকারি কলেজে বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ক্যাম্পাস।
বুধবার (০১ এপ্রিল) দুপুরে শিক্ষার্থীদের তীব্র উত্তেজনার মুখে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ ১৪ জন শিক্ষক। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কক্ষ ও কলেজের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনার সূত্রপাত জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুরে এ বিষয়ে কথা বলতে তারা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মো. রফিকুল ইসলাম শেখের কার্যালয়ে যান। তবে অধ্যক্ষ জানান, সামনে একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষাসহ বেশ কিছু বিশেষ পরীক্ষা থাকায় এই মুহূর্তে অনুষ্ঠান করা সম্ভব নয়। পরীক্ষা শেষ হলে বড় পরিসরে অনুষ্ঠান করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
অবরোধ ও ভোগান্তি অধ্যক্ষের এমন সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হতে পারেনি শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। তারা তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজিত হয়ে অধ্যক্ষের কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয়। একই সঙ্গে কলেজের মূল ফটকেও তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে অধ্যক্ষের কক্ষের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হলে ভেতরে থাকা শিক্ষকরা চরম বিপাকে পড়েন।
অবরোধের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও ভোগান্তিতে পড়েন। মাহিনূর ও লাবনী নামে দুই শিক্ষার্থী জানান, কলেজ তালাবদ্ধ হওয়ায় আমরা ভেতরে আটকে পড়ি। জরুরি প্রয়োজনেও কেউ বের হতে বা ভেতরে ঢুকতে পারছিল না।
পুলিশের হস্তক্ষেপ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ খবর পেয়ে বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন এবং অনুষ্ঠান আয়োজনের যৌক্তিক সমাধানের আশ্বাস দিলে আড়াই ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা তালা খুলে দেয়। এরপর কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মো. রফিকুল ইসলাম শেখ বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের দাবির বিরোধী নই। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র ও আসন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতির কারণে এখন অনুষ্ঠান করা অসম্ভব। প্রশাসনিক নিয়ম না মেনেই তারা আমাকে ও আমার সহকর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখে এবং বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেয়। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে কলেজের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে এবং বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
এ ঘটনায় কলেজজুড়ে এখনও চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।


