হক আমীন:
নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়। প্রমত্তা পদ্মার বাতাস বয়ে যেত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ ক্যামপাসে, আর সেই বাতাসে ভেসে বেড়াত স্বপ্ন, সংগ্রাম আর তরুণদের অদম্য উচছাস।
১৯৯৪ থেকে ১৯৯৯-এই সময়টা ছিল একদল তরুণের জন্য শুধু পড়ালেখা নয়, নিজেদের গড়ে তোলা, সমাজকে জানার এবং সত্যকে তুলে ধরার এক অনন্য সময়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই সময়ের শিক্ষার্থীরা কেবল পাঠ্যবইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। তারা হাতে তুলে নিয়েছিল কলম, খাতা আর কখনও ক্যামেরা-হয়ে উঠেছিল এক ঝাঁক তরুণ সাংবাদিক। ক্লাসের ফাঁকে, লাইব্রেরির নির্জন কোনে, কিংবা টুকটাক আড্ডার মাঝেই জন্ম নিত নতুন নতুন রিপোর্টের আইডিয়া। খবর ছিল তাদের নেশা, আর সত্য তুলে ধরা ছিল তাদের দায়িত্ব।
এই যাত্রায় পথপ্রদর্শক ছিলেন সিনিয়ররা-সফিকুল ইসলাম, উত্তম কুমার দাশ, আয়ুব আলী, জাহিদুল ইসলাম সজল, তারেক চৌধুরি, আব্দুর রাজ্জাক, আজিজুল ইসলাম সরকার, এন এম জাহাঙ্গীর, হাসমত আলী, আমিনুল হক, শহিদুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, আবদুল মতিন, জাকির হোসেন, মাজেদুল ইসলাম সুইট, ফারুক চৌধুরি, খ এ বিপ্লবসহ আরও অনেকে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব ছিল এই তরুণ সাংবাদিকদের মিলন স্থল। তাদের হাত ধরেই নবীনেরা শিখেছে সংবাদ লেখার কৌশল। সবচেয়ে বড় কথা সাংবাদিকতার নৈতিকতা, সিনিয়র-জুনিয়রের এই বন্ধন ছিল শুধু পেশাগত নয়, ছিল গভীর আন্তরিকতায় ভরা এক মানবিক সম্পর্ক।
ক্যামপাসের প্রতিটি ঘটনা, আন্দোলন, সাংস্কৃতিক আয়োজন কিংবা শিক্ষার্থীদের সুখ-দু:খ-সবই ছিল তাদের প্রতিবেদনের বিষয়। কখনও রাত জেগে লেখা, কখনও ভোরের আলো ফোটার আগেই বের হয়ে পড়া- এই ছিল তাদের নিত্য দিনের চিত্র। এর মাঝেই গড়ে উঠেছিল বন্ধুত্ব, সহমর্মিতা আর একে অপরের প্রতি অগাধ বিশ্বাস।
সময় অনেক বদলে গেছে। প্রযুক্তি সহজ করেছে সাংবাদিকতার পথ, কিন্তু সেই দিনগুলোর আন্তরিকতা, আর নির্মল আনন্দ যেন আজও হৃদয়ের গভীরে রয়ে গেছে। সেই স্বর্ণালি দিনগুলো শুধু স্মৃতি নয়, বরং জীবনের এক অমূল্য অধ্যায়-যা আজ অনুপ্রেরণা জোগায়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই তরুণ সাংবাদিকদের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়-স্বপ্ন দেখতে জানলে সীমিত সুযোগেও বড় কিছু করা সম্ভব। তারুণ্যের সেই দিনগুলো, সত্যিই জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়। স্বর্ণালি দিন।


