টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
কক্সবাজারের টেকনাফ ও রামু এলাকায় পৃথক অভিযানে একদিনে রেকর্ড পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসব অভিযানে মোট ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩১ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার টাকা।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬৪ বিজিবি সর্ববৃহৎ একক চালান হিসেবে ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। এর বাজারমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার টাকা।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পাওয়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি—রাডার, ড্রোন ও থার্মাল ইমেজার ব্যবহারের মাধ্যমে নাফ নদী সংলগ্ন এলাকায় সন্দেহজনক চলাচল শনাক্ত করা হয়।
শুক্রবার ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে একদল চোরাকারবারি নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবির টহল দল তাদের লক্ষ্য করে অ্যাম্বুশ স্থাপন করে। উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা সঙ্গে থাকা ইয়াবার পোটলা ফেলে দিয়ে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে পালিয়ে যায়।
পরে ঘটনাস্থল থেকে ১৩টি বড় পোটলা উদ্ধার করে বিজিবি। এসব পোটলায় পাওয়া যায় ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা।
এদিকে একই দিন দুপুরে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের তুলাবাগান এলাকায় পৃথক অভিযানে রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) আরও ২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, সীমান্ত দিয়ে মাদক, জ্বালানি, ভোজ্য তেল ও সার পাচার রোধে তাদের অভিযান চলমান রয়েছে। গত দুই মাসে ৬৪ বিজিবি প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কেজি সার এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পাচার প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে।
বিজিবি আশা প্রকাশ করেছে, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।


