বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
সাবেক খাদ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে এবং জেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে বদলি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে বারবার নিজ এলাকায় দায়িত্ব পালন করার অভিযোগ উঠেছে জাকির হোসেন নামে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। ১৪ বছরের চাকরি জীবনের প্রায় ১১ বছরই তিনি কাটিয়েছেন নিজ উপজেলা নিয়ামতপুরের শিবপুর খাদ্য গুদামে (এলএসডি)। অভিযোগ রয়েছে, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনৈতিকভাবে ম্যানেজ করে তিনি বছরের পর বছর এই বিশেষ সুবিধা ভোগ করছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের বিশেষ আনুকূল্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় জাকির হোসেনের চাকরি হয়। জাকিরের বাড়ি নিয়ামতপুর উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে। তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হোসেন এলাকায় সাবেক মন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েই জাকির হোসেন সরকারি বদলি নীতিমালার কোনো তোয়াক্কা করছেন না।
জাকির হোসেন ২০১২ সালের ২ জানুয়ারি খাদ্য বিভাগে নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের মাত্র এক মাসের মাথায় তাকে রানীনগরে বদলি করা হলেও সেখানে ছিলেন মাত্র ৯ মাস। ২০১২ সালের অক্টোবরেই প্রভাব খাটিয়ে তিনি নিজ এলাকা শিবপুর খাদ্য গুদামে ফিরে আসেন। এরপর ২০১৩ সালে নজিপুরে বদলি হলেও মাত্র দুই বছরের মাথায় ২০১৪ সালে পুনরায় শিবপুর গুদামে পোস্টিং নেন তিনি।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর তাকে বদলগাছী উপজেলা খাদ্য গুদামে নিয়োগ দেওয়া হলেও সেখানে তিনি মাত্র ৫ মাস ৬ দিন দায়িত্ব পালন করেন। এরপর স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে পাশ কাটিয়ে জেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে চলতি ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল পোরশা উপজেলার নিতপুর খাদ্য গুদামে বদলি নিয়েছেন তিনি।
হিসাব অনুযায়ী, চাকরি জীবনের ১৪ বছর ৩ মাসের মধ্যে জাকির হোসেন নিয়ামতপুর উপজেলার বাইরে ছিলেন মাত্র ৩ বছর ৩ মাস। বাকি ১১ বছরই তিনি তার নিজ গ্রামের পাশের শিবপুর খাদ্য গুদামে কর্মরত ছিলেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একজন কর্মচারীর সাধারণ বদলির সময়সীমা ৩ বছর হলেও জাকিরের ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি।
এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিজানুর রহমান বলেন, সাধারণভাবে বদলির নিয়ম ২ থেকে ৩ বছর। বদলগাছী থেকে পোরশা বদলির ক্ষেত্রে আমার দপ্তর থেকে কোনো আবেদন বা ফরওয়ার্ডিং দেওয়া হয়নি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সরাসরি এটি করেছেন।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফরহাদ হোসেন ৫ মাসের মাথায় এই বদলি বিধি পরিপন্থী কি না—এমন প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে বলেন, জাকির হোসেনের আবেদনের প্রেক্ষিতেই তাকে বদলি করা হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ চাইলে যেকোনো সময় যেকোনো কর্মচারীকে বদলি করতে পারেন।
তবে অভিযুক্ত জাকির হোসেন তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রভাব খাটানোর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বদলির বিষয়টি সম্পূর্ণ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ব্যাপার, আমি জেলা খাদ্য কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছি।


