হক আমীন, ঢাকা:
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতাল (ইনস্টিটিউট)-দেশের লাখো রোগীর শেষ ভরসার জায়গা। কিন্তু সেই আশ্রয়স্থল এখন নিজেই এক গভীর সঙ্কটে। শয্যার সীমাবদ্ধতা আর রোগীর ঢল-এ দু’য়ের চাপে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালটি।
হাসপাতালটির ১২ নম্বর ওয়ার্ডের চিত্র যেন পুরো হাসপাতালের প্রতিচ্ছবি। যেখানে শয্যা আছে ২৮ টি, সেখানে রোগী ভর্তি ৪৬ জন। কেউ শয্যায়, কেউ মেঝেতে, আবার কেউ করিডোরে ঠাঁই নিয়েছেন। রোগীর স্বজনদের চোখে উত্কণ্ঠা, আর চিকিত্সকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ।
১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিশেষায়িত হাসপাতালটির শয্যা সংখ্যা ১ হাজার ২৫০ টি। অথচ বর্তমান রোগীর সংখ্যা ৩ হাজারের ওপর। ধারন ক্ষমতার প্রায় আড়াইগুন বেশী চাপ বহন করছে হাসপাতালটি। এতে চিকিত্সা সেবার মান যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে, তেমনি রোগীদের ভোগান্তিরও বাড়ছে বহুগুণ।
চিকিত্সক ও নার্সদের অবস্থা করুন। সীমিত জনবল দিয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে তাদের কর্মঘন্টা ভাড়ছে, মানসিক চাপ বাড়ছে। কখনও হারাচ্ছে মেজাজ। তবুও মানবিক দায়বদ্ধতায় তাঁরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
চিকিৎসকদের মতে, দেশে হৃদরোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ-সবমিলিয়ে হৃদরোগ এখন নীরব মহামারির রূপ নিয়েছে। কিন্তু সে তুলনায় বাড়েনি চিকিৎসা অবকাঠামো ।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরনের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন ভবন নির্মাণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং দক্ষ চিকিৎসক, নার্স নিয়োগ। পাশাপাশি দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশেষায়িত হৃদরোগ হাসপাতাল গড়ে তোলা জরুরি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র অবকাঠামো নয়, জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। হৃদরোগ প্রতিরোধে নিয়মিত শরীর চর্চা, সুসম খাবার, ধুমপান বর্জন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অপরিহার্য।
হৃদরোগ হাসপাতালের এ চিত্র যেন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়-স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং একটি জরুরি প্রয়োজন। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে, এ সঙ্কট ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।


