আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ার আদমদীঘিতে চাঁদা না দেওয়ায় একটি পরিবারকে দীর্ঘ এক মাস ধরে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার চাঁপাপুর ইউনিয়নের বিহিগ্রাম পশ্চিম পাড়ায় এই ঘটনাটি ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রথমে একটি পক্ষের সাথে জায়গা জমি নিয়ে বিরোধ হয় তার দুদিন পরেই প্রয়াত নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের ইউনিয়ন সম্পাদক উজ্জল হোসেনের ছোট ভাই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রুবেল হোসেন ভুক্তভোগী মুসার বাড়ির সামনে চলাচলের রাস্তায় বাঁশের বেড়া দেয় এবং এক লক্ষ টাকা না দিলে তার পায়ের রগ কেটে দেওয়াসহ প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে। ভসরেজমিনে জানাগেছে প্রয়াত আফজাল সাহানার দুই ছেলে আবু মুসা এবং ইব্রাহিম সাহানা। আবু মুসা দির্ঘদিন প্রবাসে ছিল, তার ভাই ইব্রাহিম সাহানা এখনো মালয়েশিয়া প্রবাসি। আর্থিক ভাবে প্রতিবেশিদের তুলনায় তারা সাবলম্বী তাতেই চক্ষুশুল হয়েছে প্রতিপক্ষের।
ভুক্তভোগী পরিবারের বসতবাড়ির চারপাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে তাদের কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। আবু মুসা বেড়া দেওয়ার পর থেকে প্রান ভয়ে স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ৮৫ বছর বয়সী মুসার মা বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে আছে, গ্রামের কেউ খাবার দিতে গেলেও তাকে লাঞ্চিত করা হয়। মুসা জানায়, পরিচর্যা করতে না পারায় দু,টি গরু বিক্রিতেও তারা বাঁধাদেয়।
এতে মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি। থানা পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কতৃক একাধিকবার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি মীমাংসার নামে এক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে অর্থ দাবী করছেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিত্রাণ না পেয়ে অবশেষে ভুক্তভোগী পরিবারের প্রধান আবু মুসা প্রথমে আদমদীঘি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। ২৪ মার্চ নিকটবর্তী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাঁশের বেড়া সরিয়ে দেয়। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পরের দিনই প্রতিপক্ষরা পুনরায় বসতবাড়ির চারপাশে বাঁশের বেড়া নির্মাণ করে পুনরায় তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার চাঁপাপুর ইউনিয়নের বিহিগ্রাম পশ্চিমপাড়ার আবু মুসার সঙ্গে তার প্রতিবেশী মোকছেদ সাহানার সাথে জমি বিষয়ে বিরোধ চলছিল।
এই ঘটনার জের ধরে গত ১৮ মার্চ আবু মুসার বসতবাড়িতে যাওয়ার চলাচলের পথে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়। ঘটনাটি নিয়ে আদমদীঘি থানা ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে উভয় পক্ষের অনুপস্থিতিতে কোনো সমাধান সম্ভব হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি মীমাংসার কথা বলে বাচ্চু নামে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা আবু মুসার কাছে অর্থ দাবী করেন।
তিনি অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার পরিবারের ওপর প্রতিবেশীদের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে নির্যাতন, গালিগালাজ এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।ভুক্তভোগী পরিবারের দাবী, তাদের একপ্রকার একঘরে করে রাখা হয়েছে। যারফলে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করছেন। এ বিষয়ে রুবেলের চাচা জাহেদুর বলেন এটি প্রকৃত রাস্তা নয়, আমার ভাতিজার সাথে বসার কথা থাকলেও সে বসে না।
মুসা বলেন, অভিযোগ দায়েরের পর মিমাংসার উদ্দেশ্যে থানায় বসার কথা থাকলেও তারা হাজির হয়নি বরং গভীর রাতে থানার ব্যতীত একক ভাবে বসে মিমাংসার কথা বলে। থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান মিয়া জানান, পুলিশ পাঠিয়ে বাঁশের বেড়া সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে তারা আবার বেড়া দিয়েছে এবিষয়ে তিনি অবগত নন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম জানান, খতিয়ে দেখে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


