সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতাঃ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড মডেল থানার দুই উপ-পরিদর্শক (এসআই)সহ তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্য, মিথ্যা মামলা দায়ের, শারীরিক নির্যাতন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন- এএসআই হারুন রশিদ, এসআই পরিমল এবং কনস্টেবল মেহেদী।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভীতি ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে আসছেন। নিরীহ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদক মামলা দেওয়ার হুমকি, বড় ধরনের মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় এবং থানায় আটক রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কেউ অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে রাতভর আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে, যা এলাকাবাসীর কাছে দীর্ঘদিন ধরে ‘ওপেন সিক্রেট’ হিসেবে পরিচিত।
এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী মোশারফ দীর্ঘদিনের হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। পাশাপাশি তিনি পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, পুলিশ সিকিউরিটি সেল এবং জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, অভিযোগকারী মোশারফ ‘সজীব’ নামের এক ব্যক্তিকে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পাওয়ার পর এএসআই হারুন রশিদ তার টিমসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করেন। তিনি আরও বলেন, “উত্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, সম্প্রতি পুলিশের সাবেক সদস্য মোশাররফকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। জানা যায়, তাকে বিনা অপরাধে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ‘সজিব’ নামের এক যুবককে জোরপূর্বক সাক্ষী বানানোর অভিযোগও ওঠে। পরবর্তীতে তিনি আদালতে উপস্থিত হয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বীকার করেন যে, মোশাররফ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং তার কাছ থেকে জোরপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য আদায় করা হয়েছিল। এ অবস্থায় আদালত বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে মোশাররফকে জামিন প্রদান করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলার মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিনের এসব অনিয়ম ও নির্যাতনের প্রতিবাদে তারা ইতোমধ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। খুব শিগগিরই অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনসাধারণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


