নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
গ্রীষ্মের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে যেন নতুন রূপে সেজে ওঠে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর। পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক, অফিসপাড়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নদীর তীরজুড়ে ফুটে থাকা কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম সৌন্দর্য সহজেই নজর কাড়ে সবার। সবুজ পাতার ফাঁকে লাল ফুলের ঝলকানি দেখে মনে হয় যেন প্রকৃতির বুকে আগুনের রঙ ছড়িয়ে পড়েছে।
কৃষ্ণচূড়া শুধু একটি ফুল নয়, এটি যেন বাংলার গ্রীষ্মের এক আবেগ। কবি-সাহিত্যিকদের লেখায়ও বারবার উঠে এসেছে এই ফুলের নাম। রোদের দুপুরে কৃষ্ণচূড়ার ছায়া যেমন স্বস্তি দেয়, তেমনি এর লাল আভা পথচারীদের মনে তৈরি করে অন্যরকম প্রশান্তি।
নবীনগরের বিভিন্ন এলাকায় এখন চোখে পড়ছে সারি সারি কৃষ্ণচূড়া গাছ। বিশেষ করে লঞ্চঘাট এলাকা, সরকারি কলেজের শহিদ মিনার চত্বর, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, আদালত প্রাঙ্গণ, বুড়ি নদীর পাড়, জমিদার বাড়ি, সুর সম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে ফুটে থাকা কৃষ্ণচূড়া শহরের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
মূলত এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত এ ফুল সবচেয়ে বেশি ফোটে। গ্রীষ্মের শুরুতেই গাছজুড়ে লাল ফুলের সমারোহ তৈরি হয়। দূর থেকে তাকালে মনে হয় সবুজ প্রকৃতির মাঝখানে কেউ লাল রঙের কারুকাজ এঁকে দিয়েছে।
কৃষ্ণচূড়ার আদি নিবাস আফ্রিকার মাদাগাস্কার হলেও এখন এটি বাংলার প্রকৃতির সঙ্গে মিশে গেছে একদম আপন হয়ে। ভারত ও পাকিস্তানে যাকে গুলমোহর নামে ডাকা হয়, বাংলাদেশে সেটিই পরিচিত কৃষ্ণচূড়া নামে।
নবীনগরের গ্রাম থেকে শহর, রাস্তার মোড় থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনা, সবখানেই এখন কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম উপস্থিতি। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এই সময়টা যেন বাড়তি ভালো লাগার এক ঋতু।


