সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাওলানা মো. মিজানুর রহমান (৫৫) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার ভোর পৌনে ৩টায় ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মরহুম মিজানুর রহমান সীতাকুণ্ড পৌরসভার পেশকারপাড়া এলাকার মৃত আপলাতুন ইসলামের পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভার ক্যানসারে ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে প্রথমে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
পেশাগত জীবনে তিনি উপজেলার পন্থিছিলা ইসলামীয়া দাখিল বিজ্ঞান মাদ্রাসার সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী আন্দোলন ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও এক পুত্র সন্তান রেখে গেছেন।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী বলেন, “মাওলানা মিজানুর রহমান একজন সজ্জন, নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও দক্ষ সংগঠক ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর মৃত্যু সংগঠনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।”
এদিকে মরহুমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক লায়ন আসলাম চৌধুরী। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, “মাওলানা মিজানুর রহমান একজন সৎ, আদর্শবান শিক্ষক, ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি ও সমাজসেবক ছিলেন। তাঁর মৃত্যু সীতাকুণ্ডের শিক্ষা, সামাজিক ও ধর্মীয় অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।”
তার মৃত্যুতে অধ্যাপক লায়ন আসলাম চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। সীতাকুণ্ডের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনেও তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


