চট্টগ্রাম থেকে নাজমুল হক
সমুদ্রের গর্জন, বাতাসে লবণাক্ত গন্ধ আর সূর্যাস্তের লাল আভা – এই দৃশ্যের মাঝেই ছুটে চলা ঘোড়া যেন এক জীবন্ত কবিতা। চট্টগ্রাম কিংবা কক্সবাজারের সমুদ্র তীরে এখন ঘোড়ার পিঠে চড়ে একমুঠো আনন্দ উপভোগ করা পর্যটকদের জন্য এক অন্যরকম বিনোদন। আনন্দের এই মুহূর্তগুলো শুধু পর্যটকদের হাসিই এনে দিচ্ছে না, বদলে দিচ্ছে বহু মানুষের জীবন জীবিকা।
একসময় ঘোড়া ছিল রাজা-বাদশাদের ঐশ্বর্যের প্রতীক। যুদ্ধক্ষেত্রে বিজয়ের সঙ্গী, রাজদরবারের গৌরব বহন – ঘোড়া ছিল এক উচ্চ মর্যাদার প্রতীক। ইতিহাসের সেই বীরত্বগাথা আজও গল্প হয়ে বেঁচে আছে। কিন্তু সময় বদলেছে, আধুনিক যুগে যান্ত্রিক যানবাহনের ভিড়ে ঘোড়ার সেই রাজকীয় ব্যবহার কমে গেছে। তবে হারিয়ে যায়নি তার গুরুত্ব – রূপ বদলে। সে এখন নেমেছে মানুষের জীবিকার ময়দানে।
কক্সবাজার বা পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে গেলে চোখে পড়ে অনেক ঘোড়া। ঘোড়ার মালিকরা হাক – ডাক দিচ্ছে “ঘোড়ায় চড়ুন, আনন্দ উপভোগ করুন।”
শিশু থেক বড় – সবার কাছেই এটি এক দারুণ অভিজ্ঞতা। ঢেউয়ের পাশে ঘোড়ার পিঠে চড়ে ছুটে চলা, যেন সিনেমার দৃশ্যকে বাস্তবে ছুঁয়ে দেখার মতো। এই বিনোদন শুধু আনন্দ নয়, স্মৃতিরও অংশ হয়ে থাকে দীর্ঘ দিন।
সমুদ্রের তীরে এই ঘোড়াগুলি অনেক পরিবারের জীবিকার প্রধান উত্স। “একজন ঘোড়ার মালিক প্রতিদিন পর্যটকদের ঘোড়ায় চড়ানোর মাধ্যমে হাজার টাকা আয় করেন। মৌসুম ভাল হলে আয়ও বাড়ে।” বলছিলেন পতেঙ্গার ঘোড়ার এক মালিক আবুল কাশেম।
সমুদ্র তীরে ঘোড়া যেন অতীত ও বর্তমানের এক অপূর্ব সংযোগ। একদিকে রাজকীয় ঐতিহ্যের স্মৃতি, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জীবিকার লড়াই।
সমুদ্রের বালুচরে ছুটে চলা ঘোড়া শুধু তাই বিনোদনের বাহন নয়, এটি অনেক মানুষের স্বপ্ন, সংগ্রাম আর বেঁচে থাকার গল্প।


