হক আমীন
কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দরের পাশে ছোট্ট গ্রাম বানরকুটি, সবুজে ঘেরা শান্ত এই গ্রামেই বসবাস ৬০ বছর বয়সী বিধবা আলেয়া বেগমের। জীবন তার কাছে কোন গল্প নয় – এ যেন প্রতিদিনের সংগ্রামের বাস্তব এক চিত্র, যেখানে রঙ কম, কষ্ট বেশী।
১২ বছর আগে স্বামী আসকার আলীর মৃত্যু যেন তার জীবনের সব আশ্রয় এক নিমিষেই ভেঙ্গে দেয়। সংসারের হাল ধরার মতো কেউ থাকেনি। একমাত্র ছেলে আনোয়ার হোসেন বিয়ের পর আলাদা হয়ে গেছেন, নিজের সংসারে ব্যস্ত। মেয়ে নাজমা বেগমও তার স্বামী, সন্তান নিয়ে অন্যত্র জীবন গুছিয়েছেন। ফলে একা আলেয়া বেগমের দিন কাটে নির্ভরতার কোন হাত ছাড়া।
তবে জীবন থেমে থাকেনি। বেঁচে থাকার তাগিদে আলেয়া বেগম বেছে নিয়েছেন এক কঠিন পথ – দুটি গাভী পালন। এই গাভীই এখন বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল, তার ভরসা, আশ্রয়। প্রতিদিন সকাল – বিকাল, হাতে কাঁচি নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন ঘাস কাটতে। কখনো রোদ, কখনো বৃষ্টি কোন কিছুই তাকে থামাতে পারে না। কারন তিনি জানেন, গাভী দুটোর পেট ভরলেই তার নিজের বেঁচে থাকার পথটুকু খোলা থাকবে।
তার কাঁধের ঘাসের আঁটি আর কাঁচি হাতে – এই দৃশ্য যেন প্রতিদিনের বাস্তবতা। ক্লান্ত শরীর, কিন্তু চোখে অদম্য ইচ্ছা শক্তি। সমাজের প্রান্তিক এই নারী জীবনের কাছে হার মানেননি, বরং প্রতিটি দিনকে জয় করার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন নীরবে।
আলেয়া বেগমের গল্প শুধু একজন নারীর সংগ্রামের গল্প নয়, এটি আমাদের সমাজের একটি প্রতিচ্ছবি। যেখানে এখনো অনেক মানুষ ন্যুনতম সহায়তা ছাড়া বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন। তার মতো মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের জন্য একটু সহানুভূতি আর সহায়তার হাত বাড়ানো – এটাই হতে পারে মানবিক সমাজ গঠনের প্রথম ধাপ।
ঘাসের আঁটির মতো ছোট ছোট আশা নিয়ে বেঁচে আছেন আলেয়া বেগম। আর সেই আশাই তাকে প্রতিদিন নতুন করে বাঁচার শক্তি জোগায়।


