আরিফুল ইসলাম (পাবনা)
এখন বর্ষাকাল চলছে, আর প্রতিবছর আমাদের বাংলাদেশে অসংখ্য ছোট বাচ্চা পানিতে ডুবে মারা যায়, যার সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটে এই বর্ষার সময়।
এই সময় চারিদিকে অনেক পানি থাকায় অনেক ছোট বাচ্চারা সেই পানিতে ডুবে মারা যায়, খালি হয় অনেক মায়ের কোল। এই সময় আপনারা আপনাদের ছোট্ট বাচ্চাদের সর্বোচ্চ সাবধানে রাখবেন যেনো তাঁরা কোনভাবেই অরক্ষিতভাবে জলাশয়ের কাছে না যায়। আর অবস্যই আপনারা আপনাদের বাচ্চাদের সাঁতার সেখার বয়স হবার সাথে সাথে সাঁতার শিখিয়ে দিবেন। কারণ আমাদের বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ এখানে নদনদীসহ চারিদিকেই অসংখ্য পুকুর, খাল, ডোবা জলাশয় থাকে। তাই সাতার না সেখান কোন অজুহাত নেই। শিশু বাচ্চাকে সাতার শেখানো আবশ্যক।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং ঘরের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা সবচেয়ে জরুরি। এই সময়ে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, টাইফয়েড এবং ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়।পরিবারের সুরক্ষায় যে বিষয়গুলো মেনে চলা উচিত, তাঁর একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো: স্বাস্থ্য ও খাবার দাবারবিশুদ্ধ পানি: পানি ফুটিয়ে বা ফিল্টার করে পান করুন। রান্নার কাজেও নিরাপদ পানি ব্যবহার নিশ্চিত করুন। টাটকা খাবার: বাসি বা রাস্তার খোলা খাবার পুরোপুরি বর্জন করুন। সবসময় গরম ও টাটকা খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। মৌসুমি ফল: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন-সি যুক্ত টক ফল এবং মৌসুমি শাকসবজি খান। হাত ধোয়া: বাইরে থেকে ফিরলে এবং খাবার খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।ঘরবাড়ি ও চারপাশের পরিচ্ছন্নতামশা নিয়ন্ত্রণ: ঘরের কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। দিনে বা রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন।আলো-বাতাস: ঘরের স্যাঁতসেঁতে ভাব দূর করতে ভারী পর্দার বদলে হালকা পর্দা ব্যবহার করুন, যেন ঘরে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো ঢোকে আসবাব ও ফ্রিজ: ফ্রিজের ভেতর-বাইরে নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। ঘরের কোণা ও বাথরুম শুকনো রাখার চেষ্টা করুন যেন ছত্রাক না জন্মায়। শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্নভিজে গেলে: বৃষ্টিতে ভিজলে ঘরে ফিরে দ্রুত মাথা ও শরীর ভালো করে মুছে নিন।
সম্ভব হলে কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করিয়ে দিন। পোশাক: শিশুদের সবসময় শুকনো এবং আরামদায়ক পোশাক পরিয়ে রাখুন। বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি: জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে ছাতা, রেইনকোট এবং ওয়াটারপ্রুফ জুতো ব্যবহার করুন। প্রাথমিক চিকিৎসা: ঘরে পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন, জ্বর ও ঠান্ডার ওষুধ এবং মশা তাড়ানোর স্প্রে বা ক্রিম মজুত রাখুন।বর্ষার দিনগুলোতে ঘরে বসে পরিবারের সাথে আনন্দময় সময় কাটাতে দাবা, লুডুর মতো ইনডোর গেম খেলতে পারেন। রোগবালাইয়ের লক্ষণ গুরুতর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


