সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট ইনোভেশন অ্যান্ড প্র্যাকটিসেস (সিদীপ)। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে বিতরণের জন্য সংস্থাটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে ৬০০টি ত্রাণ প্যাকেট হস্তান্তর করেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলামের হাতে এসব ত্রাণসামগ্রী আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়।
প্রতিটি ত্রাণ প্যাকেটে ছিল ৫ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার ভোজ্যতেল, ১ কেজি চিনি, ৫০০ গ্রাম লবণ, ৫০০ গ্রাম সুজি, ১ কেজি চিড়া, দুই পাতা হ্যালো ট্যাবলেট এবং এক বক্স এসএমসি ওরস্যালাইন।
ত্রাণ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জামিরুল ইসলাম, সিদীপ চট্টগ্রাম জোনের জোনাল ম্যানেজার মো. রশিদুল ইসলাম, সীতাকুণ্ড শাখার ম্যানেজার মো. আব্দুর রশিদ মিয়া, সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আল ফারুক, সাংবাদিক সঞ্জয় চৌধুরী, প্রকল্প বাস্তবায়ন সহকারী কর্মকর্তা রুবেল দাশসহ সংশ্লিষ্টরা।
মানবিক এ উদ্যোগের জন্য সিদীপকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “দেশের সংকটময় সময়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার এমন মানবিক উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বন্যার্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার শুরু থেকেই তৎপর রয়েছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও সামাজিক সংগঠনের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।”
সিদীপ চট্টগ্রাম জোনের জোনাল ম্যানেজার মো. রশিদুল ইসলাম বলেন, “দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। সীতাকুণ্ডের যেকোনো সংকটে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সিদীপ ভবিষ্যতেও মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে।”
জানা গেছে, সম্প্রতি সীতাকুণ্ডে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় বহু মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও বেসরকারি সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে সিদীপ দ্রুত ৬০০টি ত্রাণ প্যাকেট নিয়ে এগিয়ে আসে।
স্থানীয়রা জানান, দুর্যোগকালে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোর এমন মানবিক সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সমাজে সহযোগিতার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।


