হক আমীন
বাংলাদেশের জাতীয় পাখি দোয়েল শুধু একটি পাখি নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত এক জীবন্ত প্রতীক। গ্রামের সকালবেলায় দোয়েলের মধুর ডাক একসময় ছিল দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কবিতা, গান, গল্প-সবখানেই এই ছোট্ট পাখিটির উপস্থিতি ছিল উজ্জল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই পরিচিত দৃশ্য আজ ক্রমশ বিরল হয়ে উঠছে।
দোয়েল সাধারনত খোলা আঙ্গিনা, বাগান, গাছপালা ঘেরা পরিবেশে বসবাস করে। মানুষের কাছাকাছি থাকতে ভালোবাসা এই পাখিটি খুব সহজেই মানুষের সাথে সহাবস্থান করত। কিন্তু নগরায়ন, গাছপালা কাটা, পরিবেশ দূষণ, কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল নির্মূল হয়ে যাচ্ছে। ফলে দোয়েলের সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দোয়েলের বিলুপ্তির পেছনে সবচেয়ে বড় কারন হচ্ছে বাসস্থান সঙ্কট। একসময় যেসব গ্রাম ছিল সবুজে ভরা, এখন সেগুলো পরিণত হয়েছে কংক্রিটের জঙ্গলে। এছাড়া পাখি ধরার প্রবনতা, পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতার অভাবও এই সমস্যাকে তীব্র করে তুলেছে।
দোয়েল শুধু একটি পাখি নয়, এটি আমাদের জাতীয় পরিচয়ের অংশ। তাই এই পাখি রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বাড়ির আশপাশে গাছ লাগানো, পাখির জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা এবং শিশু-কিশোরদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
আজ যদি আমরা সচেতন না হই, তবে হয়তো-ভবিষ্যত প্রজন্ম দোয়েলকে শুধু বইয়ের পাতায় বা ছবিতে দেখবে। তাই এখনই সময় প্রকৃতিকে ভালোবাসার, দোয়েলকে বাঁচানোর-কারন দোয়েল বাঁচলে বাঁচবে আমাদের ঐতিহ্য ও পরিবেশের সৌন্দর্য।


